Desherdak || Daily Newspaper In Bangladesh
Desherdak || Daily Newspaper In Bangladesh Desherdak || Daily Newspaper In Bangladesh Desherdak || Daily Newspaper In Bangladesh Desherdak || Daily Newspaper In Bangladesh Desherdak || Daily Newspaper In Bangladesh
সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
Desherdak || Daily Newspaper In Bangladesh

শিরোনাম

অর্থবছর জানুয়ারি-ডিসেম্বরে নেওয়ার প্রস্তাব বিরোধীদলীয় নেতার ৪৭তম বিসিএসে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ শিক্ষার্থীর সাফল্য চরফ্যাশনে প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে এফডিএ’র আঞ্চলিক কারিগরি কর্মশালা রাবিতে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে সিট দখলের অভিযোগ, শিবিরের মানববন্ধন ময়মনসিংহে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস পালিত বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার-এর মৃত্যুতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর শোক মহিপুরে গুড নেইবার্স বাংলাদেশের বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ৯ দিনে অভিযোগপত্র, শেষ পর্যায়ে সাক্ষ্যগ্রহণ এবারের বাজেট ‘জীবনবান্ধব’: প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় ভিসার আবেদন শুরু, প্রথম দিনেই দীর্ঘ লাইন
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

কাল মুদ্রানীতি ঘোষণা

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এবারও সতর্ক অবস্থানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : সোমবার, ২৯ জুন,২০২৬, ১২:১৯ পিএম
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এবারও সতর্ক অবস্থানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ এখনো স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে না নামায় নতুন অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) মুদ্রানীতিতেও সতর্ক অবস্থান বজায় রাখতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এবারও সংকোচনমূলক নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ইঙ্গিত মিলেছে। ফলে নীতি সুদহার ১০ শতাংশেই অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে বড় বাজেট, প্রণোদনা কর্মসূচি, তারল্য সহায়তা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার কেনার কার্যক্রমের ফলে অর্থনীতিতে অতিরিক্ত অর্থপ্রবাহ তৈরি হয়ে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি হতে পারে বলেও মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান আগামীকাল বিকেল ৩টায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের (জুলাই-ডিসেম্বর) মুদ্রানীতি ঘোষণা করবেন। এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ নতুন মুদ্রানীতির অনুমোদন দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নীতি সুদহার আগের অবস্থানেই রাখা হতে পারে। কারণ, সম্প্রসারণমূলক মুদ্রানীতি গ্রহণ করলে বাজারে অর্থপ্রবাহ বাড়বে, যা মূল্যস্ফীতির ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

নতুন অর্থবছরের বাজেটে সরকার গড় মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, গত মে মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে, যা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ। টানা দুই মাস ধরে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে রয়েছে। মে মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৬ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ। গ্রাম ও শহর—উভয় এলাকাতেই মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের বেশি থাকায় এর প্রভাব অর্থনীতির প্রায় সব খাতে পড়েছে।

অন্যদিকে, নতুন অর্থবছরের বড় বাজেট এবং প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা কর্মসূচির ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে একই সঙ্গে বাজারে অর্থপ্রবাহ ও চাহিদা বাড়লে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মহাপরিচালক ড. এজাজুল ইসলাম বলেন, বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতিতে নীতি সুদহার কমিয়ে আরও সম্প্রসারণমূলক অবস্থানে যাওয়া সমীচীন হবে না। সম্প্রসারণমুখী রাজস্বনীতির পাশাপাশি সহজ মুদ্রানীতি গ্রহণ করলে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংক আপাতত সতর্ক বা ‘ধীরে চলো’ নীতি অনুসরণ করবে বলেই মনে হচ্ছে। ফলে নতুন মুদ্রানীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।

পলিসি থিঙ্ক অ্যান্ড ইকোনমিক রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান ও অর্থনীতি বিশ্লেষক মো. মাজেদুল হক বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এখন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। তবে শুধু মুদ্রানীতির মাধ্যমে এটি সম্ভব নয়। করব্যবস্থা, রাজস্বনীতি, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, দেশে পরোক্ষ করের ওপর নির্ভরশীলতা বেশি হওয়ায় ভ্যাট ও আমদানি শুল্ক বাড়লে তার প্রভাব সরাসরি মূল্যস্ফীতিতে পড়ে। একই সময়ে উচ্চ সুদহারের কারণে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁর মতে, নীতি সুদহার ১ শতাংশ কমিয়ে ৯ শতাংশে নামানো হলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফিরতে পারে। পাশাপাশি কর কাঠামোর সংস্কার এবং বাজার ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার পরামর্শ দেন তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পুরোপুরি সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি গ্রহণ করে এবং নীতি সুদহার বাড়িয়ে ১০ শতাংশে উন্নীত করে। সর্বশেষ গত ফেব্রুয়ারিতে ঘোষিত মুদ্রানীতিতেও নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়। একই সঙ্গে স্ট্যান্ডিং ল্যান্ডিং ফ্যাসিলিটির (এসএলএফ) ঊর্ধ্বসীমা ১১ দশমিক ৫ শতাংশ বহাল রাখা হয়। আর স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটির (এসডিএফ) নিম্নসীমা ৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করা হয়।

নতুন মুদ্রানীতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি বলেন, নতুন অর্থবছর শুরুর আগেই মুদ্রানীতি ঘোষণা করার চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, নতুন মুদ্রানীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

সম্পর্কিত

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)