সজীব রাজভর, সিনিয়র রিপোর্টার
‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ময়মনসিংহে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা সম্মাননা প্রদান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের সম্মেলনকক্ষে জেলা প্রশাসন ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর যৌথ আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শিক্ষার্থীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে শিক্ষকদের দায়িত্বশীল ও আন্তরিক ভূমিকা পালন করতে হবে। শিক্ষা যেন শুধু অবকাঠামো ও সার্টিফিকেট অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। বরং শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী মানসম্মত শিক্ষা, সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে শিক্ষার চাহিদা বাড়ায় দেশে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কোচিং সেন্টার ও প্রাইভেট শিক্ষার বিস্তার ঘটেছে। সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যদি শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়, তাহলে অভিভাবকেরা স্বাভাবিকভাবেই বিকল্প শিক্ষাব্যবস্থার দিকে ঝুঁকবেন।
শিক্ষকদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘শিক্ষকতা শুধু চাকরি নয়, এটি একটি সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব।’ প্রতিটি শিক্ষার্থীকে নিজের সন্তানের মতো বিবেচনা করে তাদের প্রতি যত্নশীল ও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত নয়। তাদের বিভিন্ন প্রতিভা ও আগ্রহকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, সব শিক্ষার্থী পরীক্ষায় প্রথম হবে—এমন নয়। কেউ খেলাধুলায় ভালো, কেউ গান-নাচে, কেউ বিজ্ঞানচর্চায় আবার কেউ সৃজনশীল কাজে দক্ষ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এসব প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করতে হবে। বিদ্যালয় এমন একটি পরিবেশে পরিণত করতে হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি আনন্দের সঙ্গে শিখতে পারে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে সরকারি উদ্যোগে মিড-ডে মিল চালুর বিষয়টিও তুলে ধরেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে খাবার ও অবকাঠামোগত সুবিধার পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং সহশিক্ষা কার্যক্রম বাড়ানো জরুরি।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে জেলা প্রশাসক বলেন, শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য শুধু সার্টিফিকেট অর্জন নয়; বরং মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন, দায়িত্বশীল ও সমাজের জন্য কল্যাণকর মানুষ তৈরি করা। সরকারি দায়িত্বের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেও শিক্ষাক্ষেত্রে সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) লুৎফুন নাহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (পিটিআই) সুপারিনটেনডেন্ট মোহাম্মদ শাহজাহান কবীর, জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক মীর আকরাম উদ্দীন আহম্মদ এবং ময়মনসিংহ বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাছিমা আক্তার।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সম্মাননাপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।