পটুয়াখালী প্রতিনিধি
পটুয়ালীর বাউফল উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে হামলার ঘটনায় দুইজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত সাতজন। আহতদের মধ্যে শাহিন রাড়ি ও মাঈনুদ্দিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে ইউনিয়নের চর রায়সাহেব বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন—শাহিন রাড়ি, মাঈনুদ্দিন, সোহেল রাড়ি, মামুন, ইউনুস, মমতাজ ও রানী বেগম। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে শাহিন রাড়ি ও মাঈনুদ্দিনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আহতদের অভিযোগ, জামায়াতের ইউনিয়ন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল শরিফের নেতৃত্বে সোহাগ, সাকিব হাওলাদার, আলামিন চৌকিদার ও আরিকুল চৌকিদারসহ ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাঁদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় শাহিন রাড়ি ও মাঈনুদ্দিনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। তাঁদের উদ্ধারে এগিয়ে গেলে অন্যদেরও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন আহতরা।
আহত ব্যবসায়ী শাহিন রাড়ির দাবি, হামলার সময় তাঁর কাছে থাকা ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, জমি বিক্রি করে কলাইয়া বাজার থেকে ফেরার পথে তাঁর কাছে ওই টাকা ছিল।
আহত মাঈনুদ্দিনের ভাষ্য, তাঁদের বসতির উত্তর পাশে লালচরে স্থানীয় কৃষকদের মহিষ ঘাস খাওয়ানোর সময় মমিনপুর এলাকার জেলেদের বাঁশের তৈরি মাছ ধরার চাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে কৃষকদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ বাবদ কিছু টাকা তুলে জেলেদের দেওয়া হয়।
মাঈনুদ্দিনের দাবি, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি সোহাগ ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল শরিফ ক্ষুব্ধ হন। এর জের ধরেই তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দা সিমা বেগমের দাবি, নির্বাচনের পর থেকেই শাহিন রাড়ি ও মাঈনুদ্দিনদের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধ চলে আসছিল। শাহিন রাড়ি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় তাঁকে লক্ষ্য করেই পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে স্থানীয় পলি বেগম অভিযোগ করেন, হামলাকারীদের কয়েকজন আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সরকার পতনের পর তাঁরা জামায়াতের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এলাকায় মাদক কারবারসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ত্রাস সৃষ্টি করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার পর সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত কাউকে পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত সাইফুল শরিফের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন আহতদের স্বজন ও স্থানীয়রা।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন। এ ঘটনায় আইনানুগ পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।