নিজস্ব প্রতিবেদক
ময়মনসিংহের ত্রিশালে নতুন বিমানবন্দর স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। ঢাকার বর্তমান বিমানবন্দর ব্যবস্থার সক্ষমতা ও ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে আগামী দিনে ত্রিশালের মতো স্থানে নতুন বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠার বিষয়ে কাজ করার কথা জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (১১ অক্টোবর) ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নগরীর সারিন্দা সবারি রিসোর্টে ‘সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বিমানমন্ত্রী বলেন, ঢাকার বর্তমান বিমানবন্দর এবং নতুন তৃতীয় টার্মিনাল চালুর পরও ভবিষ্যতে বিমান পরিবহন খাতের সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। তাঁর ধারণা, বর্তমান বিমানবন্দর ব্যবস্থার ওপর বড়জোর আরও আট থেকে দশ বছর নির্ভর করা সম্ভব হতে পারে। এরপর বিকল্প অবকাঠামোর প্রয়োজন দেখা দিতে পারে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের যে এখন বিমানবন্দরটি আছে এবং নতুন যে থার্ড টার্মিনাল উদ্বোধন হচ্ছে, সেখানে হয়তো আমরা বড়জোর আর আট-দশ বছর থাকতে পারব। তারপরে আমাদের ত্রিশালের মতো জায়গায় এটা যাতে প্রতিষ্ঠিত হয়, সে চেষ্টা আমি করব।’
মন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দর নির্মাণ বড় ধরনের অবকাঠামো প্রকল্প। এর জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা, অবকাঠামোগত প্রস্তুতি ও সময়ের প্রয়োজন। তাই এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে ধৈর্য ধরে এগোতে হবে।
ময়মনসিংহে বিমানবন্দর স্থাপিত হলে বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, নির্দিষ্ট স্থান, সম্ভাব্যতা সমীক্ষা কিংবা নির্মাণের সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি। মন্ত্রী কেবল ত্রিশালের মতো স্থানে বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
দেশের বিমান পরিবহন খাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী ৩৫টি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বিমানবহর আরও বড় করার প্রয়োজন রয়েছে। তাঁর প্রত্যাশা, একসময় দেশের বিমানবহরে ২০০টিরও বেশি উড়োজাহাজ থাকবে। পাশাপাশি কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের মতো গন্তব্যে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
এ ছাড়া নেত্রকোনার বিরিশিরিকে জাতীয় পর্যায়ের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান মন্ত্রী। বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পর্যটনশিল্পের বিকাশে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. রোকনোজ্জামান রোকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি, ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনের সংসদ সদস্য মো. জাকির হোসেন বাবলু এবং ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুলাহেল মাজেদ।
এ ছাড়া বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী প্রায় ১ হাজার ২০০ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।