নিজস্ব প্রতিবেদন
দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক)কে আরও কার্যকর ও গতিশীল করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহামেদ মুইজ্জু এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। একই সঙ্গে তারা দুই দেশের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে একমত হয়েছেন।
রোববার (২৬ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মালদ্বীপের ৬১তম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দিতে শনিবার মালে পৌঁছান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরুথিশাম আদম।
পরে প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাতে ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট মুইজ্জুর প্রতি শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ায় তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বৈঠকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন করায় মালদ্বীপের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, পারস্পরিক সম্মান ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আলোকে বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে শক্তিশালী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তোলা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
বৈঠকে উভয় নেতা বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। দুই দেশের জনগণের কল্যাণে বাস্তবমুখী সহযোগিতা বৃদ্ধি, বাণিজ্য, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ এবং অন্যান্য পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট খাতে সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ সময় সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও মতবিনিময় করেন তারা। পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে সার্ককে আরও কার্যকর ও গতিশীল করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে উভয়েই একমত হন।
মালদ্বীপে কর্মরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিক ও পেশাজীবীদের অবদানের প্রশংসা করেন প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু। তিনি বলেন, মালদ্বীপের অর্থনীতিতে বাংলাদেশিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ অব্যাহত থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।
সাক্ষাতে মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরুথিশাম আদম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলী ইহুসান এবং মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার নাজমুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
পরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্মানে প্রেসিডেন্ট মোহামেদ মুইজ্জু উচ্চপর্যায়ের একটি চা-চক্রের আয়োজন করেন। এতে মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট হুসেইন মোহামেদ লতিফ, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং দেশটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
সন্ধ্যায় মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরুথিশাম আদম আয়োজিত কূটনৈতিক সংবর্ধনায় যোগ দেন ড. খলিলুর রহমান। অনুষ্ঠানে তিনি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি এবং মালদ্বীপ সরকারের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।