Desherdak || Daily Newspaper In Bangladesh
Desherdak || Daily Newspaper In Bangladesh Desherdak || Daily Newspaper In Bangladesh Desherdak || Daily Newspaper In Bangladesh Desherdak || Daily Newspaper In Bangladesh Desherdak || Daily Newspaper In Bangladesh
রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Desherdak || Daily Newspaper In Bangladesh

শিরোনাম

● যমুনা ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক ● গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি বোর্ডের গেজেট প্রকাশ ● কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের জয় হলে নির্বাহী ক্ষমতায় দেশ চালাবে ট্রাম্প ● ‘উসকানি দিচ্ছিল জামায়াত-এনসিপি, গার্মেন্টসকর্মী সেজে আন্দোলনে আ.লীগ’ ● মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী ● পর্যটন ব্যবস্থাপনায় এআই ব্যবহারে গুরুত্ব দিয়ে শেষ হলো পর্যটন মেলা ● ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৯২৯ ● তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে নরওয়েকে আমন্ত্রণ জানালেন স্পিকার ● ঢাকায় ই-রিকশা চলবে আটটি জোনে, নিবন্ধন শুরু কাল থেকে ● চরফ্যাশনে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

কুয়াকাটায় হোটেলের লাইসেন্স নবায়নের নামে ঘুষ, আটক শ্রম পরিদর্শক

মিজানুর রহমান রিপন, কলাপাড়া

প্রকাশ : শনিবার, ৩১ অক্টোবর,২০২৬, ০৫:৩২ পিএম
কুয়াকাটায় হোটেলের লাইসেন্স নবায়নের নামে ঘুষ, আটক শ্রম পরিদর্শক

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় আবাসিক হোটেলের নতুন লাইসেন্স ও নবায়ন করে দেওয়ার কথা বলে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে মো. শাহাব উদ্দিন নামে এক শ্রম পরিদর্শককে হাতেনাতে আটক করেছেন হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা। এ সময় তিনটি হোটেল থেকে নেওয়া মোট ৩৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান ওই টাকা হোটেল কর্তৃপক্ষকে ফেরত দেন।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাতে কুয়াকাটা প্যালেস ও হোটেল শৈবালের লাইসেন্স নবায়নের কথা বলে ৫০ হাজার টাকা দাবি করার অভিযোগ ওঠে ওই শ্রম পরিদর্শকের বিরুদ্ধে। পরে রাত ৯টার দিকে হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা তাঁকে হাতেনাতে আটক করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার দিনভর কুয়াকাটার বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে গিয়ে লাইসেন্স নবায়ন ও নতুন লাইসেন্স করে দেওয়ার কথা বলে টাকা আদায় করেন ওই কর্মকর্তা। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হোটেল কর্তৃপক্ষকে মামলার ভয় দেখানো হতো।

হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের অভিযোগ, গত দুই বছর ধরে ওই শ্রম পরিদর্শক বিভিন্ন হোটেলে গোপনে মামলার ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আদায় করেছেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার তাঁর সঙ্গে আলোচনা করেও কোনো সমাধান হয়নি।

হোটেল সাউথ স্টারের পরিচালক মো. মিঠুন বলেন, কয়েক দিন আগে ওই শ্রম পরিদর্শক তাঁদের হোটেলে গিয়ে ২৫ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হোটেলের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে শুক্রবার বিকেলে হোটেলে এসে ৩০ হাজার টাকা দিলে মামলা তুলে নেওয়া এবং আর হয়রানি না করার কথা জানান। এরপর তাঁরা টাকা দেন।

হোটেল সি-লেভের মালিক মো. সবুজ বলেন, কয়েক মাস আগে মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে ৩৭ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। শুক্রবার আবার এসে লাইসেন্স নবায়নের জন্য ৮ হাজার টাকা দাবি করেন ওই কর্মকর্তা। তাঁর কাছে টাকা না থাকায় ৫ হাজার টাকা দেন এবং বাকি ৩ হাজার টাকা রাতে বিকাশের মাধ্যমে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জসিম উদ্দিন বাবুল ভূঁইয়া বলেন, গত দুই বছর ধরে ওই কর্মকর্তা এভাবে গোপনে হোটেলমালিকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছেন। এ বিষয়ে তাঁকে দুইবার আলোচনায় বসার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সরকারি কোষাগারে নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে কীভাবে লাইসেন্স করা যায়, তা নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সঙ্গে রেখে আলোচনা করতে চাইলেও তিনি রাজি হননি। বরং মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করেছেন। ওই কর্মকর্তাকে কুয়াকাটা থেকে প্রত্যাহার করে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে বরিশাল কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক নবীন হাওলাদার বলেন, তাঁরা জানতে পেরেছেন, শাহাব উদ্দিন ব্যক্তিগতভাবে কুয়াকাটায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। সরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নগদ টাকা গ্রহণের কোনো সুযোগ নেই। তাঁদের দপ্তরে এ, বি ও সি ক্যাটাগরিতে লাইসেন্স দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। সর্বোচ্চ নবায়ন ফি হতে পারে ১ হাজার ৫০০ টাকা। ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান বলেন, শ্রম পরিদর্শক মো. শাহাব উদ্দিন বিভিন্ন স্থানে গিয়ে টাকা নিচ্ছেন—এমন খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। পরে হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় পর্যায়ে প্রতিবেদন পাঠানো হবে, যাতে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

অভিযুক্ত মো. শাহাব উদ্দিন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের শ্রম পরিদর্শক (সাধারণ) হিসেবে কর্মরত। তিনি ৩৮তম বিসিএসের নন-ক্যাডার কর্মকর্তা। গত চার বছর ধরে বরিশালে কর্মরত রয়েছেন।

সম্পর্কিত

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)