নিজস্ব প্রতিবেদক
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন জাতীয় সংসদ সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদের সংসদকক্ষে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। ভোট চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
এ নির্বাচনে ভোটার হিসেবে রয়েছেন ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দুজন প্রার্থী—ক্ষমতাসীন বিএনপির মনোনীত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ। বিএনপির ২৪৭ জন সংসদ সদস্য থাকায় সংখ্যার হিসাবে মির্জা ফখরুলের জয় প্রায় নিশ্চিত। তবে একাধিক প্রার্থী থাকায় আইন অনুযায়ী ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভোট দিয়েছেন। একইভাবে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানও ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
১৯৯১ সালে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর ওই বছর প্রথমবার সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর টানা সাতজন রাষ্ট্রপতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় ভোটের প্রয়োজন হয়নি। এবার দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।
সংসদ সদস্যদের যেসব নির্দেশনা মানতে হবে
১. সংসদকক্ষে প্রবেশ:
২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে সংসদকক্ষে প্রবেশ করে ব্যালট সংগ্রহ ও ভোট দিতে হবে। এ সময় বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে।
২. আইডি কার্ড সঙ্গে রাখা:
সংসদকক্ষে প্রবেশের সময় সংসদ সচিবালয় থেকে দেওয়া আইডি কার্ড সঙ্গে রাখতে হবে।
৩. ব্যালট সংগ্রহ:
নিজ আসনে বসার পর সহায়তাকারী কর্মকর্তার কাছ থেকে নিজের নাম ও বিভক্তি নম্বরযুক্ত ব্যালট পেপার নিতে হবে। ব্যালটের কাউন্টার ফয়েল বা চেকমুড়িতে নির্ধারিত স্থানে পূর্ণ নাম লিখে সেটি সহায়তাকারী কর্মকর্তার কাছে ফেরত দিতে হবে।
৪. পছন্দের প্রার্থীকে ভোট:
ব্যালটের নির্ধারিত অংশে পছন্দের প্রার্থীর নামের বিপরীতে নির্দিষ্ট স্থানে নিজের পূর্ণ নাম লিখে ভোট দিতে হবে।
৫. ব্যালট বাক্সে জমা:
ভোট দেওয়া শেষে ব্যালট পেপার সংসদকক্ষে রাখা নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে জমা দিতে হবে।
৬. ব্যালট নষ্ট হলে:
কোনো কারণে ব্যালট পেপার নষ্ট হয়ে গেলে সেটি ব্যালট বাক্সে জমা দেওয়ার আগে নির্বাচনকর্তার কাছে দেখাতে হবে। এরপর নির্বাচনকর্তা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
৭. নির্বাচনী প্রচার নিষিদ্ধ:
ভোটগ্রহণের জন্য সংসদ সদস্যদের বৈঠকে কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচার, বক্তব্য বা ভাষণ দেওয়া যাবে না।
৮. সমস্যায় চিফ হুইপের সহায়তা:
ভোট দেওয়ার সময় কোনো তাৎক্ষণিক সমস্যা হলে চিফ হুইপ ও বিরোধীদলের চিফ হুইপের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
৯. পূর্ণ নাম লিখতে হবে:
ব্যালট পেপারে যেখানে ভোটারের পূর্ণ স্বাক্ষরের কথা বলা হয়েছে, সেখানে ভোটারকে নিজের পূর্ণ নাম লিখতে হবে।
বিকেল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সংসদকক্ষে ভোট গণনা শুরু হবে। প্রথমে কতজন ভোট দিয়েছেন, কতটি ব্যালট বৈধ ও বাতিল হয়েছে এবং কতটি ব্যালট অব্যবহৃত রয়েছে—এসব হিসাব করা হবে। এরপর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পাওয়া বৈধ ভোট গণনা করা হবে।
সর্বাধিক বৈধ ভোট পাওয়া প্রার্থীকে নির্বাচনকর্তা বিজয়ী ঘোষণা করবেন। পরে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে।
এর আগে গত ২৪ জুলাই অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। পদটি শূন্য হওয়ার পর ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ১৩ আগস্ট বিএনপি মনোনীত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ মনোনয়নপত্র জমা দেন। ১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাই শেষে দুজনের মনোনয়নই বৈধ ঘোষণা করা হয়।