রবিউল ইসলাম হৃদয়
দ্রোহ, সাম্য, মানবতা ও প্রেমের কবি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে মুখর হয়ে উঠেছে ময়মনসিংহের ত্রিশাল। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ও কবি নজরুল স্মৃতিকেন্দ্রে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) যথাযথ মর্যাদা, শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে কবিকে স্মরণ করা হয়।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির প্রথম দিন বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে স্থাপিত নজরুল ভাস্কর্যে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে কবির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি কাজে ক্যাম্পাসের বাইরে থাকায় অনলাইনে যুক্ত হয়ে কবির স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন। এ সময় তিনি কবির বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। পরে কবির স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা, আইন অনুষদের ডিন মুহাম্মদ ইরফান আজিজ, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) খন্দকার নাজমুল হাসান, নজরুল মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপন কমিটি-২০২৬-এর আহ্বায়ক ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো. হাবিব-উল-মাওলা (মাওলা প্রিন্স), শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. মো. শফিকুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জনি, গ্রন্থাগারিক (ভারপ্রাপ্ত) ড. মোহা. আজিজুর রহমান, ইন্সটিটিউট অব নজরুল স্টাডিজের অতিরিক্ত পরিচালক রাশেদুল আনাম, কর্মচারী সমিতির সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম, কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি হারুনুর রশিদ, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. হাবিবুর রহমান ও সদস্য-সচিব মামুন সরকারসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. আশরাফুল আলম।
এর আগে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে পবিত্র কোরআন খতম করা হয়। বাদ জোহর অনুষ্ঠিত হয় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল। এতে দোয়া পরিচালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মো. আব্দুল হাকীম।
মৃত্যুবার্ষিকীর কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ৩০ আগস্ট বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে কবিতা আবৃত্তি এবং হামদ-নাত প্রতিযোগিতা হবে। পরদিন ৩১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের তৃতীয় তলার কনফারেন্স কক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হবে।
অন্যদিকে, ত্রিশালে অবস্থিত কবি নজরুল স্মৃতিকেন্দ্রেও জাতীয় কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে স্মৃতিকেন্দ্রের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্মৃতিকেন্দ্রের পরিচালক মো. ফয়জুল্লাহ রোমেল।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসনাত জাহান খান। স্মৃতিকেন্দ্রের লাইব্রেরিয়ান রাসেল হোসেনের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন ত্রিশাল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুর রহমান ও কবি আক্তারুজ্জামান।
আলোচনায় বক্তারা নজরুলের সাহিত্য, সংগীত ও মানবতাবাদী দর্শন নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁরা বলেন, সমাজে সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িকতার চেতনা প্রতিষ্ঠায় নজরুলের সৃষ্টিকর্ম আজও গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ্য, অন্যায়, শোষণ, বঞ্চনা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বিদ্রোহ, সাম্য ও মানবতার অনন্য প্রতীক।
১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট (১২ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ) ঢাকার তৎকালীন পিজি হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন জাতীয় কবি। বাংলাদেশে বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী ১২ ভাদ্র তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়। পরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
কবির মৃত্যুর পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও তাঁর সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্মে উচ্চারিত সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের চেতনা আজও বাঙালির সমাজ ও সংস্কৃতিতে গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক। তাঁর ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দেশজুড়ে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করছে।