জেলা প্রতিনিধি, নরসিংদী
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার আমিরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদে লাইসেন্স করাতে এসে খুন হয়েছেন এক ব্যবসায়ী। এ ঘটনায় জড়িত শামীম মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে পরিষদের একটি কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যবসায়ীর নাম শাহীন মিয়া (৩৫)। তিনি উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের মেঝেরকান্দি এলাকার আব্দুল খালেক মিয়ার ছেলে এবং হাসনাবাদ বাজারের হার্ডওয়্যার দোকান মালিক। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, দুপুরে শাহীন মিয়া তার দোকানের লাইসেন্স করাতে আমিরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদে আসেন। এ সময় পরিষদের বারান্দায় অবস্থানরত শামীম মিয়া তার সঙ্গে অশোভন আচরণ ও গালাগাল করেন। প্রতিবাদ করলে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়।
এক পর্যায়ে শামীম প্রথমে বাঁশ নিয়ে তেড়ে আসেন এবং পরে পাশের বাড়ি থেকে দা-বঁটি এনে পরিষদের সহকারী সচিবের কক্ষে বসে থাকা শাহীনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। তখন মাথা ও শরীরে উপর্যুপরি কোপে গুরুতর আহত হন শাহীন। পরে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ অভিযুক্ত শামীমকে গ্রেপ্তার করে। জানা যায়, শামীম মিয়া হাসনাবাদ এলাকার জালু মিয়ার ছেলে এবং ইউনিয়ন পরিষদের পাশেই তার বাড়ি। তিনি ভবঘুরে স্বভাবের এবং মাদকাসক্ত।
এ ছাড়া চুরি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্মকাণ্ডেও তার সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
আমিরগঞ্জ ইউনিয়নের দফাদার রাজকুমার বলেন, ‘ঘটনার সময় পরিষদে তেমন লোকজন ছিল না। একজন দোকান মালিক লাইসেন্স করাতে এসেছিলেন। তখনই শামীমের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। এর পরেই এমন হামলা করে সে। আমি ঠেকাতে গিয়ে মেঝেতে পড়ে আহত হই।’
ইউনিয়ন পরিষদের সচিব রাকিব মিয়া জানান, ‘ঘটনার সময় আমি পরিষদে উপস্থিত ছিলাম না। তবে অভিযুক্ত শামীম প্রায়ই পরিষদের বারান্দায় বসে ও শুয়ে থাকত। তার বাড়ি পরিষদের পাশেই।’
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল মাহমুদ জানান, ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত শামীমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।