জেলা প্রতিনিধি, বগুড়া
বগুড়ার শেরপুর থানা পুলিশ আন্তঃজেলা চোর চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে।
সোমবার পটুয়াখালী ও বরিশাল জেলার পৃথক দুটি স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় শেরপুর থানার একটি মামলার তদন্তে চুরি যাওয়া ২৯টি ব্যাটারি ও ১০৫টি সন্দেহজনক গ্যাস সিলিন্ডার উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন মো. ইয়াকুব মৃধা (৪৪), যিনি পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা থানার বাসিন্দা, এবং মো. শহিদুল ইসলাম ওরফে শহিদ (৪৫), যিনি বরিশাল জেলার বিমানবন্দর থানার করাপুর মাষ্টারবাড়ি এলাকার বাসিন্দা।
তারা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ডাকাতি ও চোরাই মালামাল কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, শেরপুর উপজেলার শেরুয়া বটতলা এলাকায় "কিষান অটো" ব্যাটারির দোকান থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে ৪১টি ব্যাটারি চুরি হয়। পরের দিন দোকানের মালিক মুনজুরুল হাসান শেরপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. আনোয়ার হোসেন জানান, তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে ২৪ ফেব্রুয়ারি সিরাজগঞ্জ জেলার সলঙ্গা থেকে মো. নুরুন্নবীউল আহসান রুমিকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১০ মার্চ পটুয়াখালীর গলাচিপা থানার শৈল্যাবুনিয়া এলাকা থেকে মো. ইয়াকুব মৃধাকে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি শেরপুরের চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বরিশাল জেলার বিমানবন্দর থানাধীন করাপুর মাষ্টারবাড়ি এলাকা থেকে মো. শহিদুল ইসলাম ওরফে শহিদকে গ্রেফতার করা হয়।
শহিদুল ইসলামের কাছ থেকে চুরি যাওয়া ২৯টি ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও তার বাড়িতে থাকা ১০৫টি গ্যাস সিলিন্ডার জব্দ করা হয়েছে, যা অন্য কোনো স্থান থেকে চুরি করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উদ্ধারকৃত গ্যাস সিলিন্ডারের প্রকৃত মালিকদের শনাক্ত করতে সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে বেতার বার্তা পাঠানো হয়েছে।
শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, “আসামীদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”