ঢাকা ০৬:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রাবি শিক্ষকদের সর্বাত্মক কর্মবিরতি

  • রাবি প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৬:২৭:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুলাই ২০২৪
  • ৫০৬ বার পড়া হয়েছে
Spread the love

সর্বজনীন পেনশনের ‘প্রত্যয় স্কিম’ প্রত্যাহার এবং শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রবর্তনের দাবিতে দশম দিনের মতো সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষকেরা। আজ মঙ্গলবার (৯ জুলাই) বেলা ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনের সামনে এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঘন্টাব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা।

কর্মসূচিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা যে পেনশন ব্যবস্থার মধ্যে ছিলাম, তাতে আমরা সন্তুষ্ট ছিলাম। আমাদের মূল দাবি ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সুপার গ্রডে অন্তর্ভুক্ত এবং স্বতন্ত্র বেতন কাঠানো প্রবর্তন। যার দাবি আমরা ১৫-২০ বছর ধরে জানিয়ে আসছি। কিন্তু নতুন করে এই প্রত্যয় স্কিম চাপিয়ে দেওয়ার পর আমাদের বাধ্য করেছে সরকার সংশ্লিষ্ট মহলগুলো ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে রাস্তায় আসতে। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলমান থাকবে। ছাত্রদের কাছে অনুরোধ থাকবে, তোমাদের জন্য আমরা আন্দোলন করছি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কে রক্ষার জন্য আন্দোলন করছি। আজ দুই-চার বছরে হয়তো আমরা এর ফল বুঝবো না। কিন্তু দুই-চার-পাঁচ বছর পরে বুঝবো যে কিভাবে বিশ্ববিদ্যালয় গুলো কলেজের থেকে নিচে নেমে গেছে। সেই জায়গা থেকে যদি কোনো ক্ষয়ক্ষতি অর্থাৎ সেশনজটের আশঙ্কা যেটা অনেকেই করছে, কিছুটা হয়তো থাকবে। কিন্তু সেটা শিক্ষকরা নিজস্ব সময় দিয়ে ভবিষ্যতে এটা থেকে বেড়িয়ে আসতে পারবে।’

আরও পড়ুন >>ধর্ষণের অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ঈসমাইল পুলিশ হেফাজতে
তিনি আরো বলেন, ‘আগামীকাল (১০ জুলাই) বেলা এগারোটায় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. কামাল আব্দুর নাসের চৌধুরী এবং ইউজিসি কর্মকর্তাদের সাথে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সাক্ষাৎকার রয়েছে। উপাচার্যের কাছে অনুরোধ থাকবে তিনি একজন উপাচার্য নয় বরং একজন শিক্ষক হিসেবে যেন আমাদের এই যৌক্তিক দাবিগুলো তাদের কাছে তুলে ধরবেন।’

প্রসঙ্গত, গত ১৩ মার্চ অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এক প্রজ্ঞাপন জারি করে। সেখানে বলা হয়, চলতি বছরের ১ জুলাইয়ের পর থেকে স্বশাসিত, স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার চাকরিতে যারা নতুন যোগ দেবেন, তারা বিদ্যমান ব্যবস্থার মতো আর অবসরোত্তর পেনশন-সুবিধা পাবেন না। তার পরিবর্তে নতুনদের বাধ্যতামূলক সর্বজনীন পেনশনের আওতাভুক্ত করা হবে। এটি প্রত্যাহারের দাবিতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণও লাগাতার কর্মসূচি করে আসছেন।

কর্মসূচিটি সঞ্চালনা করেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ওমর ফারুক সরকার। এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এনামুল হক। কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও ইন্সটিটিউটের প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাবি শিক্ষকদের সর্বাত্মক কর্মবিরতি

আপডেট সময় : ০৬:২৭:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুলাই ২০২৪
Spread the love

সর্বজনীন পেনশনের ‘প্রত্যয় স্কিম’ প্রত্যাহার এবং শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রবর্তনের দাবিতে দশম দিনের মতো সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষকেরা। আজ মঙ্গলবার (৯ জুলাই) বেলা ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনের সামনে এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঘন্টাব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা।

কর্মসূচিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা যে পেনশন ব্যবস্থার মধ্যে ছিলাম, তাতে আমরা সন্তুষ্ট ছিলাম। আমাদের মূল দাবি ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সুপার গ্রডে অন্তর্ভুক্ত এবং স্বতন্ত্র বেতন কাঠানো প্রবর্তন। যার দাবি আমরা ১৫-২০ বছর ধরে জানিয়ে আসছি। কিন্তু নতুন করে এই প্রত্যয় স্কিম চাপিয়ে দেওয়ার পর আমাদের বাধ্য করেছে সরকার সংশ্লিষ্ট মহলগুলো ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে রাস্তায় আসতে। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলমান থাকবে। ছাত্রদের কাছে অনুরোধ থাকবে, তোমাদের জন্য আমরা আন্দোলন করছি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কে রক্ষার জন্য আন্দোলন করছি। আজ দুই-চার বছরে হয়তো আমরা এর ফল বুঝবো না। কিন্তু দুই-চার-পাঁচ বছর পরে বুঝবো যে কিভাবে বিশ্ববিদ্যালয় গুলো কলেজের থেকে নিচে নেমে গেছে। সেই জায়গা থেকে যদি কোনো ক্ষয়ক্ষতি অর্থাৎ সেশনজটের আশঙ্কা যেটা অনেকেই করছে, কিছুটা হয়তো থাকবে। কিন্তু সেটা শিক্ষকরা নিজস্ব সময় দিয়ে ভবিষ্যতে এটা থেকে বেড়িয়ে আসতে পারবে।’

আরও পড়ুন >>ধর্ষণের অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ঈসমাইল পুলিশ হেফাজতে
তিনি আরো বলেন, ‘আগামীকাল (১০ জুলাই) বেলা এগারোটায় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. কামাল আব্দুর নাসের চৌধুরী এবং ইউজিসি কর্মকর্তাদের সাথে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সাক্ষাৎকার রয়েছে। উপাচার্যের কাছে অনুরোধ থাকবে তিনি একজন উপাচার্য নয় বরং একজন শিক্ষক হিসেবে যেন আমাদের এই যৌক্তিক দাবিগুলো তাদের কাছে তুলে ধরবেন।’

প্রসঙ্গত, গত ১৩ মার্চ অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এক প্রজ্ঞাপন জারি করে। সেখানে বলা হয়, চলতি বছরের ১ জুলাইয়ের পর থেকে স্বশাসিত, স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার চাকরিতে যারা নতুন যোগ দেবেন, তারা বিদ্যমান ব্যবস্থার মতো আর অবসরোত্তর পেনশন-সুবিধা পাবেন না। তার পরিবর্তে নতুনদের বাধ্যতামূলক সর্বজনীন পেনশনের আওতাভুক্ত করা হবে। এটি প্রত্যাহারের দাবিতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণও লাগাতার কর্মসূচি করে আসছেন।

কর্মসূচিটি সঞ্চালনা করেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ওমর ফারুক সরকার। এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এনামুল হক। কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও ইন্সটিটিউটের প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।