ঢাকা ০১:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহে ভার্চুয়াল কমিউনিকেশনস নিয়ে ভয়ংকর জালিয়াতি

Spread the love

ময়মনসিংহে ভার্চুয়াল কমিউনিকেশনস নামে ইন্টারনেট সেবাদানকারী একটি প্রতিষ্ঠান নিয়ে ভয়ংকর জাল-জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দফায় দফায় ৩ টি মামলাও হয়েছে। দীর্ঘ অনুসন্ধানে ওঠে এসেছে জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। একটি সংঘবদ্ধ চক্র জালিয়াতি করে লুটে নিয়েছে কয়েক কোটি টাকা। আর সর্বশান্ত হয়েছে প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত মালিক। ২০১৬ সালে ৪ জন পার্টনার মিলে ( MYM Virtual Communications) নামে ইন্টারনেট ব্যবসা শুরু করে, কিন্তু আব্দুল্লাহর জালিয়াতির কারণে, ২০১৮ সালে ময়মনসিংহ নগরীর সি.কে ঘোষ রোডের একটি ভবনে একক মালিকানাধীন ভার্চুয়াল কমিউনিকেশনস নামে একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন আফজালুল হক।

প্রতিষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য ম্যানেজার হিসেবে আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ও অপারেশন ম্যানেজার হিসেবে পার্থ প্রতীম ঘোষ রাজীব নামে দুইজনকে নিয়োগ দেন আফজালুল হক এবং অর্থের লেনদেন সহজ করতে ভার্চুয়াল কমিউনিকেশনস নামে রূপালী ব্যাংকে একটি যৌথ একাউন্ট খোলে দেন। কিন্তু তারা সেই ব্যবসায়িক একাউন্ট ব্যবহার না করে আব্দুল্লাহ নিজ নামে সিটি ব্যাংকে একটি একাউন্ট খোলে এবং ২৬০০ গ্রাহকের কাছ থেকে ১ কোটি ৯ লাখ টাকা ভার্চুয়াল কমিউনিকেশনসের নামে উত্তোলন করে নিজের ঐ সিটি ব্যাংকের একাউন্টে গোপনে জমা করে। ঘটনাটি জানতে পেরে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আফজালুল ১ কোটি ৯ লাখ টাকা ফেরত চায় আর এতেই বেঁকে বসে আব্দুল্লাহ, নানারকম টালবাহানা করতে থাকে, একপর্যায়ে আফজালুল আইনের আশ্রয় নিয়ে আব্দুল্লাহ ও পার্থের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণা করার অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।

অপরদিকে আফজালুলের মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্তে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার সত্যতা খোঁজে পেয়ে আদালতে একটি প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদন দাখিলের কিছুদিন পর অভিযুক্ত পার্থ আফজালুলের বিরুদ্ধে যে মামলা দায়ের করেছিল তা স্থানীয়ভাবে আপোষ-মিমাংসা হওয়ায় শর্তসাপেক্ষে আদালতে মামলায় আপোষ হওয়ার আবেদন জানায় এবং বাদী আফজালুলের সাথে মামলা আপোষ করে ফেলে। অন্যদিকে ব্যবসায়িক চুক্তিপত্র জাল করে, তথ্য গোপন রেখে ভার্চয়াল কমিউনিকেশনস নামে সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন দফতর থেকে লাইসেন্স নেয় আব্দুল্লাহ। বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত মালিক আফজালুল আরেকটি মামলা করে আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে। আদালত সিআইডিকে তদন্তের ভার দিলে সিআইডির তদন্তকারী কর্মকর্তা দীর্ঘ তদন্ত শেষে ঘটনার সত্যতা পেয়ে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, এসব জাল-জলিয়াতির ঘটনা ফাঁস হওয়ার পরে আরও একটি ভয়ংকর জালিয়াতির ঘটনা ঘটায় আব্দুল্লাহ। আফজালুলের চুরি যাওয়া একটি ব্ল্যাংক চেকে ২ কোটি টাকা লিখে স্বাক্ষর জাল করে সিটি ব্যাংকে গিয়ে সেই চেক ডিজঅনার করে এবং একটি জাল চুক্তিনামা তৈরি করে একটি মিথ্যা মামলা করে বসে। মামলার বিষয়টি জানতে পেরে আফজালুল আইনের আশ্রয় নিয়ে আব্দুল্লাহ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করে দেয়। যার তদন্ত করছে সিআইডি।

আরও পড়ুন>>নরসিংদীর রায়পুরায় ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত ৫
যেভাবে টাকাগুলো লুট করা হয়
অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য ও কাগজপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২৬০০ গ্রাহকের মাসিক ইন্টারনেট বিলের সমস্ত টাকা বিকাশের মাধ্যমে তুলে আব্দুল্লাহ সিটি ব্যাংকের নিজস্ব ১৫০২৫৩০৪৮৯০০১ একাউন্টে জমা করে যার পরিমাণ দাঁড়ায় ১ কোটি ২৩ লাখ ৬৩ হাজার ৮৪ টাকা। মাসিক ব্র্যান্ডউইথ বিল হিসেবে লেভেল থ্রি কোম্পানিকে পরিশোধের নামে আব্দুল্লাহ সিটি ব্যাংকের আরেকটি নিজস্ব একাউন্ট ২৮০৩২০০৬০৩০০১- তে ২৭ লাখ ৭২ হাজার ৩৪ টাকা জমা করে আত্মসাৎ করে।

এছাড়াও আব্দুল্লাহ সিটি ব্যাংকের তার আরেকটি একাউন্ট ৮৬২৩২০০৬০৩০০১ -তে প্রতিমাসে ৩০ হাজার টাকা করে জমা করে ডিপিএস করে, যেখানে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা জমা হয়। অপরদিকে ব্যক্তিগত বিনিয়োগ দেখিয়ে অফিস একাউন্ট থেকে ৪ লাখ ৯৭ হাজার টাকা তুলে নিয়ে আত্মসাৎ করে । এছাড়াও লেভেল থ্রি থেকে ইন্টারনেট ক্রয়, জিজিসি ও এফএনএ ক্রয় দেখিয়ে ১৩ লাখ ৮৮ হাজার ৪৯২ টাকা আত্মসাৎ করে এবং গোপনে কোম্পানির কাছে বকেয়া রেখে দেয়। সর্বশেষ আর্থ টেলিকমিউনিকেশনস এ বিল দেয়ার নাম করে ২ লাখ ৪৮ হাজার ৭৮৮ টাকা গোপনে আত্মসাৎ করে কোম্পানির কাছে বকেয়া রেখে দেয় আব্দুল্লাহ।

এসব বিষয়ে ভুক্তভোগী ভার্চুয়াল কমিউনিকেশনসের পরিচালক আফজালুল হক বলেন, আমার প্রতিষ্ঠানে আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ও পার্থ প্রতীম ঘোষ রাজীব কর্মচারী হিসেবে কাজ করছিল, একসময় আমি জানতে পারি আব্দুল্লাহ তার নিজের নামে রাজীবের সহযোগীতায় ৩টি ব্যাংক একাউন্ট করে এবং জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে বিভিন্ন কাগজপত্র তৈরি করে আমার প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে। আমি টাকা চাইলে নানাভাবে টালবাহানা করতে থাকে, এক পর্যায়ে আমি তাদেরকে প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেই এবং আমার টাকা উদ্ধার করার জন্য আইনের আশ্রয় নেই। আমার দুই মামলায় তারা দুজন জেলও খেটেছে। আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ একজন ভয়ংকর প্রতারক, সে প্রতারণার মাধ্যমে আমার চেক চুরি করে হয়রানি করার জন্য পাল্টা ২ কোটি টাকার মামলা করে বসে।

আরও পড়ুন>>প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে হতে পারে যেসব সমঝোতা সই

আমি এই প্রতারকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং আমার পাওনা টাকা ফেরত চাই। ভার্চুয়াল কমিউনিকেশনসের বিষয়ে জানতে চাইলে পার্থ প্রতীম ঘোষ রাজীব বলেন, আমি এখন এই প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত নই। আফজালুল হকের বিরুদ্ধে আমি একটি মামলা করে ছিলাম এবং সেই মামলা প্রত্যাহারও করে নিয়েছি। কাজেই এ বিষয়ে আমার কোন মন্তব্য নেই। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, আমি ভার্চুয়াল কমিউনিকেশনসের পরিচালক ছিলাম, এখনো আছি। প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে, তিনি কোন কথা বলতে রাজি হননি।

ভার্চুয়াল কমিউনিকেশনসের মালিক আফজালুল হক মন্তব্য করে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা সরদার আনোয়ার আলম সেলিম বলেন, আব্দুল্লাহ ভার্চুয়াল কমিউনিকেশনসের পরিচালক নন, ভার্চুয়াল কমিউনিকেশনসের পরিচালক আফজালুল হক। ২০১৮ সাল পর্যন্ত ( MYM Virtual Communications) এ আমাদের ৪ জনের পার্টনারশীপ থাকলেও ব্যবসায় লস হওয়ায় আমরা আর প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করতে পারছিলাম না।

পরবর্তীতে আফজালুল হক ভার্চুয়াল কমিউনিকেশনস নামে নতুন করে ব্যবসা শুরু করে এবং আমরা ৩ জন সেই প্রতিষ্ঠানে বেতনভুক্ত কর্মচারী হিসেবে কাজ শুরু করি। শুরু করার প্রায় ১ বছর পর পার্থ প্রতীম ঘোষ রাজীব আমাকে আব্দুল্লাহর গোপন একাউন্টের তথ্য জানায় এবং আমরা অনুসন্ধান করে ভয়ংকর জালিয়াতির সব তথ্য প্রমাণ পাই।

জনপ্রিয় সংবাদ

ময়মনসিংহে ভার্চুয়াল কমিউনিকেশনস নিয়ে ভয়ংকর জালিয়াতি

আপডেট সময় : ১২:৫৩:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুলাই ২০২৪
Spread the love

ময়মনসিংহে ভার্চুয়াল কমিউনিকেশনস নামে ইন্টারনেট সেবাদানকারী একটি প্রতিষ্ঠান নিয়ে ভয়ংকর জাল-জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দফায় দফায় ৩ টি মামলাও হয়েছে। দীর্ঘ অনুসন্ধানে ওঠে এসেছে জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। একটি সংঘবদ্ধ চক্র জালিয়াতি করে লুটে নিয়েছে কয়েক কোটি টাকা। আর সর্বশান্ত হয়েছে প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত মালিক। ২০১৬ সালে ৪ জন পার্টনার মিলে ( MYM Virtual Communications) নামে ইন্টারনেট ব্যবসা শুরু করে, কিন্তু আব্দুল্লাহর জালিয়াতির কারণে, ২০১৮ সালে ময়মনসিংহ নগরীর সি.কে ঘোষ রোডের একটি ভবনে একক মালিকানাধীন ভার্চুয়াল কমিউনিকেশনস নামে একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন আফজালুল হক।

প্রতিষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য ম্যানেজার হিসেবে আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ও অপারেশন ম্যানেজার হিসেবে পার্থ প্রতীম ঘোষ রাজীব নামে দুইজনকে নিয়োগ দেন আফজালুল হক এবং অর্থের লেনদেন সহজ করতে ভার্চুয়াল কমিউনিকেশনস নামে রূপালী ব্যাংকে একটি যৌথ একাউন্ট খোলে দেন। কিন্তু তারা সেই ব্যবসায়িক একাউন্ট ব্যবহার না করে আব্দুল্লাহ নিজ নামে সিটি ব্যাংকে একটি একাউন্ট খোলে এবং ২৬০০ গ্রাহকের কাছ থেকে ১ কোটি ৯ লাখ টাকা ভার্চুয়াল কমিউনিকেশনসের নামে উত্তোলন করে নিজের ঐ সিটি ব্যাংকের একাউন্টে গোপনে জমা করে। ঘটনাটি জানতে পেরে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আফজালুল ১ কোটি ৯ লাখ টাকা ফেরত চায় আর এতেই বেঁকে বসে আব্দুল্লাহ, নানারকম টালবাহানা করতে থাকে, একপর্যায়ে আফজালুল আইনের আশ্রয় নিয়ে আব্দুল্লাহ ও পার্থের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণা করার অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।

অপরদিকে আফজালুলের মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্তে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার সত্যতা খোঁজে পেয়ে আদালতে একটি প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদন দাখিলের কিছুদিন পর অভিযুক্ত পার্থ আফজালুলের বিরুদ্ধে যে মামলা দায়ের করেছিল তা স্থানীয়ভাবে আপোষ-মিমাংসা হওয়ায় শর্তসাপেক্ষে আদালতে মামলায় আপোষ হওয়ার আবেদন জানায় এবং বাদী আফজালুলের সাথে মামলা আপোষ করে ফেলে। অন্যদিকে ব্যবসায়িক চুক্তিপত্র জাল করে, তথ্য গোপন রেখে ভার্চয়াল কমিউনিকেশনস নামে সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন দফতর থেকে লাইসেন্স নেয় আব্দুল্লাহ। বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত মালিক আফজালুল আরেকটি মামলা করে আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে। আদালত সিআইডিকে তদন্তের ভার দিলে সিআইডির তদন্তকারী কর্মকর্তা দীর্ঘ তদন্ত শেষে ঘটনার সত্যতা পেয়ে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, এসব জাল-জলিয়াতির ঘটনা ফাঁস হওয়ার পরে আরও একটি ভয়ংকর জালিয়াতির ঘটনা ঘটায় আব্দুল্লাহ। আফজালুলের চুরি যাওয়া একটি ব্ল্যাংক চেকে ২ কোটি টাকা লিখে স্বাক্ষর জাল করে সিটি ব্যাংকে গিয়ে সেই চেক ডিজঅনার করে এবং একটি জাল চুক্তিনামা তৈরি করে একটি মিথ্যা মামলা করে বসে। মামলার বিষয়টি জানতে পেরে আফজালুল আইনের আশ্রয় নিয়ে আব্দুল্লাহ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করে দেয়। যার তদন্ত করছে সিআইডি।

আরও পড়ুন>>নরসিংদীর রায়পুরায় ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত ৫
যেভাবে টাকাগুলো লুট করা হয়
অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য ও কাগজপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২৬০০ গ্রাহকের মাসিক ইন্টারনেট বিলের সমস্ত টাকা বিকাশের মাধ্যমে তুলে আব্দুল্লাহ সিটি ব্যাংকের নিজস্ব ১৫০২৫৩০৪৮৯০০১ একাউন্টে জমা করে যার পরিমাণ দাঁড়ায় ১ কোটি ২৩ লাখ ৬৩ হাজার ৮৪ টাকা। মাসিক ব্র্যান্ডউইথ বিল হিসেবে লেভেল থ্রি কোম্পানিকে পরিশোধের নামে আব্দুল্লাহ সিটি ব্যাংকের আরেকটি নিজস্ব একাউন্ট ২৮০৩২০০৬০৩০০১- তে ২৭ লাখ ৭২ হাজার ৩৪ টাকা জমা করে আত্মসাৎ করে।

এছাড়াও আব্দুল্লাহ সিটি ব্যাংকের তার আরেকটি একাউন্ট ৮৬২৩২০০৬০৩০০১ -তে প্রতিমাসে ৩০ হাজার টাকা করে জমা করে ডিপিএস করে, যেখানে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা জমা হয়। অপরদিকে ব্যক্তিগত বিনিয়োগ দেখিয়ে অফিস একাউন্ট থেকে ৪ লাখ ৯৭ হাজার টাকা তুলে নিয়ে আত্মসাৎ করে । এছাড়াও লেভেল থ্রি থেকে ইন্টারনেট ক্রয়, জিজিসি ও এফএনএ ক্রয় দেখিয়ে ১৩ লাখ ৮৮ হাজার ৪৯২ টাকা আত্মসাৎ করে এবং গোপনে কোম্পানির কাছে বকেয়া রেখে দেয়। সর্বশেষ আর্থ টেলিকমিউনিকেশনস এ বিল দেয়ার নাম করে ২ লাখ ৪৮ হাজার ৭৮৮ টাকা গোপনে আত্মসাৎ করে কোম্পানির কাছে বকেয়া রেখে দেয় আব্দুল্লাহ।

এসব বিষয়ে ভুক্তভোগী ভার্চুয়াল কমিউনিকেশনসের পরিচালক আফজালুল হক বলেন, আমার প্রতিষ্ঠানে আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ও পার্থ প্রতীম ঘোষ রাজীব কর্মচারী হিসেবে কাজ করছিল, একসময় আমি জানতে পারি আব্দুল্লাহ তার নিজের নামে রাজীবের সহযোগীতায় ৩টি ব্যাংক একাউন্ট করে এবং জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে বিভিন্ন কাগজপত্র তৈরি করে আমার প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে। আমি টাকা চাইলে নানাভাবে টালবাহানা করতে থাকে, এক পর্যায়ে আমি তাদেরকে প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেই এবং আমার টাকা উদ্ধার করার জন্য আইনের আশ্রয় নেই। আমার দুই মামলায় তারা দুজন জেলও খেটেছে। আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ একজন ভয়ংকর প্রতারক, সে প্রতারণার মাধ্যমে আমার চেক চুরি করে হয়রানি করার জন্য পাল্টা ২ কোটি টাকার মামলা করে বসে।

আরও পড়ুন>>প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে হতে পারে যেসব সমঝোতা সই

আমি এই প্রতারকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং আমার পাওনা টাকা ফেরত চাই। ভার্চুয়াল কমিউনিকেশনসের বিষয়ে জানতে চাইলে পার্থ প্রতীম ঘোষ রাজীব বলেন, আমি এখন এই প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত নই। আফজালুল হকের বিরুদ্ধে আমি একটি মামলা করে ছিলাম এবং সেই মামলা প্রত্যাহারও করে নিয়েছি। কাজেই এ বিষয়ে আমার কোন মন্তব্য নেই। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, আমি ভার্চুয়াল কমিউনিকেশনসের পরিচালক ছিলাম, এখনো আছি। প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে, তিনি কোন কথা বলতে রাজি হননি।

ভার্চুয়াল কমিউনিকেশনসের মালিক আফজালুল হক মন্তব্য করে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা সরদার আনোয়ার আলম সেলিম বলেন, আব্দুল্লাহ ভার্চুয়াল কমিউনিকেশনসের পরিচালক নন, ভার্চুয়াল কমিউনিকেশনসের পরিচালক আফজালুল হক। ২০১৮ সাল পর্যন্ত ( MYM Virtual Communications) এ আমাদের ৪ জনের পার্টনারশীপ থাকলেও ব্যবসায় লস হওয়ায় আমরা আর প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করতে পারছিলাম না।

পরবর্তীতে আফজালুল হক ভার্চুয়াল কমিউনিকেশনস নামে নতুন করে ব্যবসা শুরু করে এবং আমরা ৩ জন সেই প্রতিষ্ঠানে বেতনভুক্ত কর্মচারী হিসেবে কাজ শুরু করি। শুরু করার প্রায় ১ বছর পর পার্থ প্রতীম ঘোষ রাজীব আমাকে আব্দুল্লাহর গোপন একাউন্টের তথ্য জানায় এবং আমরা অনুসন্ধান করে ভয়ংকর জালিয়াতির সব তথ্য প্রমাণ পাই।