ঢাকা ০১:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কোটা বাতিলের দাবিতে রোববার ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি

Spread the love

সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আগামীকাল রোববার সারাদেশে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করবেন তারা।

শনিবার (৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টায় শাহবাগ মোড় থেকে অবরোধ তুলে নেন শিক্ষার্থীরা। অবরোধ তুলে নেওয়ার আগে নতুন এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এর আগে বিকেল পৌনে ৫টায় শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

অবরোধ তুলে নেওয়ার আগে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ হাসান। তিনি বলেন, আগামীকাল থেকে সব বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করা হবে। শিক্ষকরা তাদের আন্দোলন শেষ করে ক্লাসে ফিরে গেলেও আমরা ক্লাসে ফিরবো না। রোববার বিকেল ৩টা থেকে আমাদের ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালিত হবে। সব বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজের শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় এবং মহানগর ও জেলা শহরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শহরে অবরোধ করবেন।

এর আগে বক্তব্য রাখেন আন্দোলনের আরেক সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, আজ পুলিশ আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছে। আমাদের দিকে আঙুল উঁচিয়ে কথা বলেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বাজে মন্তব্য করেছে। আমরা এর জবাব রাজপথে দেবো।

আরও পড়ুন>>ভাইরাল কখনোই স্থায়ী নয়: কুসুম

আন্দোলনকারীরা জানান, ২০১৮ সালে সারা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা সরকারি চাকরিতে অন্যায্য ও অযৌক্তিক ৫৬ শতাংশ কোটার বিরুদ্ধে সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। গণআন্দোলনের প্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের ৪ঠা অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সরকারি চাকরি (নবম-ত্রয়োদশ গ্রেড) থেকে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের ঘোষণা দিয়ে পরিপত্র জারি করে। কোটা বৈষম্য নিরসন ছিল শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের প্রাণের দাবি। গত ছয় বছর ধরে সেই অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে নিয়োগ হচ্ছে এবং একটি মেধাভিত্তিক দক্ষ প্রশাসন তৈরিতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রস্তুত করছে।

তারা বলেন, অত্যন্ত দুঃখের বিষয় গত ৫ জুন মহামান্য হাইকোর্ট সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহাল করতে রায় দিয়েছে এবং ২০১৮ সালে জারিকৃত সরকারের পরিপত্রকে অবৈধ ঘোষণা করেছে। আমরা মনে করি, হাইকোর্টের রায়ে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি। পুনরায় কোটা ফিরে আসা মানে দেশের লাখ লাখ তরুণ-তরুণীদের দাবি ও আন্দোলনের সঙ্গে প্রহসন। মুক্তিযুদ্ধের যে মূলমন্ত্র- সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার তা নিশ্চিত করতে এবং একটি দক্ষ প্রশাসন গড়তে মেধাভিত্তিক নিয়োগের বিকল্প নেই।

আরও পড়ুন>>আবারও মহাসড়ক অবরোধ করে রাবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

তারা আরও বলেন, এ কোটা বৈষম্য নিরসন এবং দুর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে চার দফা দাবি জানাচ্ছি। সেগুলো হলো- ২০১৮ সালে ঘোষিত সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখতে হবে; ১৮ এর পরিপত্র বহাল সাপেক্ষে কমিশন গঠন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি চাকরিতে (সব গ্রেডে) অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাদ দিতে হবে এবং কোটাকে ন্যূনতম পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে। সেক্ষেত্রে সংবিধান অনুযায়ী কেবল অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করা যেতে পারে; সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার করা যাবে না এবং কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্যপদগুলোতে মেধা অনুযায়ী নিয়োগ দিতে হবে; দুর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কোটা বাতিলের দাবিতে রোববার ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি

আপডেট সময় : ১০:৩২:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুলাই ২০২৪
Spread the love

সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আগামীকাল রোববার সারাদেশে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করবেন তারা।

শনিবার (৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টায় শাহবাগ মোড় থেকে অবরোধ তুলে নেন শিক্ষার্থীরা। অবরোধ তুলে নেওয়ার আগে নতুন এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এর আগে বিকেল পৌনে ৫টায় শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

অবরোধ তুলে নেওয়ার আগে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ হাসান। তিনি বলেন, আগামীকাল থেকে সব বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করা হবে। শিক্ষকরা তাদের আন্দোলন শেষ করে ক্লাসে ফিরে গেলেও আমরা ক্লাসে ফিরবো না। রোববার বিকেল ৩টা থেকে আমাদের ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালিত হবে। সব বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজের শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় এবং মহানগর ও জেলা শহরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শহরে অবরোধ করবেন।

এর আগে বক্তব্য রাখেন আন্দোলনের আরেক সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, আজ পুলিশ আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছে। আমাদের দিকে আঙুল উঁচিয়ে কথা বলেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বাজে মন্তব্য করেছে। আমরা এর জবাব রাজপথে দেবো।

আরও পড়ুন>>ভাইরাল কখনোই স্থায়ী নয়: কুসুম

আন্দোলনকারীরা জানান, ২০১৮ সালে সারা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা সরকারি চাকরিতে অন্যায্য ও অযৌক্তিক ৫৬ শতাংশ কোটার বিরুদ্ধে সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। গণআন্দোলনের প্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের ৪ঠা অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সরকারি চাকরি (নবম-ত্রয়োদশ গ্রেড) থেকে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের ঘোষণা দিয়ে পরিপত্র জারি করে। কোটা বৈষম্য নিরসন ছিল শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের প্রাণের দাবি। গত ছয় বছর ধরে সেই অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে নিয়োগ হচ্ছে এবং একটি মেধাভিত্তিক দক্ষ প্রশাসন তৈরিতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রস্তুত করছে।

তারা বলেন, অত্যন্ত দুঃখের বিষয় গত ৫ জুন মহামান্য হাইকোর্ট সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহাল করতে রায় দিয়েছে এবং ২০১৮ সালে জারিকৃত সরকারের পরিপত্রকে অবৈধ ঘোষণা করেছে। আমরা মনে করি, হাইকোর্টের রায়ে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি। পুনরায় কোটা ফিরে আসা মানে দেশের লাখ লাখ তরুণ-তরুণীদের দাবি ও আন্দোলনের সঙ্গে প্রহসন। মুক্তিযুদ্ধের যে মূলমন্ত্র- সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার তা নিশ্চিত করতে এবং একটি দক্ষ প্রশাসন গড়তে মেধাভিত্তিক নিয়োগের বিকল্প নেই।

আরও পড়ুন>>আবারও মহাসড়ক অবরোধ করে রাবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

তারা আরও বলেন, এ কোটা বৈষম্য নিরসন এবং দুর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে চার দফা দাবি জানাচ্ছি। সেগুলো হলো- ২০১৮ সালে ঘোষিত সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখতে হবে; ১৮ এর পরিপত্র বহাল সাপেক্ষে কমিশন গঠন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি চাকরিতে (সব গ্রেডে) অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাদ দিতে হবে এবং কোটাকে ন্যূনতম পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে। সেক্ষেত্রে সংবিধান অনুযায়ী কেবল অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করা যেতে পারে; সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার করা যাবে না এবং কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্যপদগুলোতে মেধা অনুযায়ী নিয়োগ দিতে হবে; দুর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।