ঢাকা ০১:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে জবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

Spread the love

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি)-এর শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেছেন। আজ সোমবার (১ লা জুলাই) বেলা ১০ টায় নিজ বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। এর আগে ৬ই জুন (বৃহস্পতিবার) কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে একই কর্মসূচি পালন করেছিলেন জবির শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে অংশ নেন। এসব প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল ‘মেধাবীদের কান্না আর না আর না’, ‘কোটা বৈষম্য নিপাত যাক, মেধাবীরা মুক্তি পাক’, ‘কোটা প্রথায় নিয়োগ পেলে, দুর্নীতি বাড়ে প্রশাসনে’, ‘মেধাবীদের যাচাই করো, কোটাপদ্ধতি বাতিল করো’ ইত্যাদি।

আরও পড়ুন>>বাংলাদেশ সৃষ্টিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান চিরস্মরণীয়

আন্দোলনে অংশ নেওয়া নৃবিজ্ঞান বিভাগে ১৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী নাকিবুল আহসান নিশাদ বলেন, “আমাদের দাবি বৈষম্যমূলক কোটা ব্যবস্থায় হাইকোর্টের রায় কে বাতিল করা হোক আর সেই সাথে আমাদের দাবি সরকারি চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে কোটা নয় মেধাকে যাচাই করে চাকরি নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্বে বিভিন্ন দেশের মত আমাদের দেশেও কোটা আধুনিকায়ন করতে হবে।”

উল্লেখ্য সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির মুক্তিযোদ্ধাসহ ৩০ শতাংশ কোটা বাতিলকে অবৈধ ঘোষণা করার ফলে সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাক‌রি‌তে মুক্তিযোদ্ধাদের ৩০ শতাংশ কোটা পুনর্বহাল করেন হাইকোর্ট। বুধবার (৫ই জুন) দুপু‌রে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ সাইফুজ্জামান জামান সাংবা‌দিক‌দের এ তথ‌্য নি‌শ্চিত ক‌রে‌ন।

আরও পড়ুন>>দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের বদলি কোনো শাস্তি হতে পারে না: মোমেন

এর আগে ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সরকারি দপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত বা আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন করপোরেশনে চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের বিদ্যমান কোটাপদ্ধতি সংশোধন করে পরিপত্র জারি করে। ১৯৯৭ সালের ১৭ মার্চের স্মারক সংশোধন করে জারি করা পরিপত্রের ভাষ্যমতে, ৯ম গ্রেড (পূর্বতন ১ম শ্রেণি) এবং ১০ম-১৩তম গ্রেডের (পূর্বতন ২য় শ্রেণি) পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধারভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হবে এবং ৯ম গ্রেড (পূর্বতন ১ম শ্রেণি) এবং ১০ম-১৩তম গ্রেডের (পূর্বতন ২য় শ্রেণি) পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কোটাপদ্ধতি বাতিল করা হলো।

ওই পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০২১ সালে রিট করেন চাকরি প্রত্যাশী ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান অহিদুল ইসলামসহ সাতজন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০২১ সালের ৬ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রুল দেন। রুলে ওই পরিপত্র কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। চূড়ান্ত শুনানি শেষে রুল অ্যাবসলিউট (যথাযথ) ঘোষণা করে রায় দেয়া হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে জবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

আপডেট সময় : ০২:০১:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুলাই ২০২৪
Spread the love

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি)-এর শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেছেন। আজ সোমবার (১ লা জুলাই) বেলা ১০ টায় নিজ বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। এর আগে ৬ই জুন (বৃহস্পতিবার) কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে একই কর্মসূচি পালন করেছিলেন জবির শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে অংশ নেন। এসব প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল ‘মেধাবীদের কান্না আর না আর না’, ‘কোটা বৈষম্য নিপাত যাক, মেধাবীরা মুক্তি পাক’, ‘কোটা প্রথায় নিয়োগ পেলে, দুর্নীতি বাড়ে প্রশাসনে’, ‘মেধাবীদের যাচাই করো, কোটাপদ্ধতি বাতিল করো’ ইত্যাদি।

আরও পড়ুন>>বাংলাদেশ সৃষ্টিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান চিরস্মরণীয়

আন্দোলনে অংশ নেওয়া নৃবিজ্ঞান বিভাগে ১৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী নাকিবুল আহসান নিশাদ বলেন, “আমাদের দাবি বৈষম্যমূলক কোটা ব্যবস্থায় হাইকোর্টের রায় কে বাতিল করা হোক আর সেই সাথে আমাদের দাবি সরকারি চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে কোটা নয় মেধাকে যাচাই করে চাকরি নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্বে বিভিন্ন দেশের মত আমাদের দেশেও কোটা আধুনিকায়ন করতে হবে।”

উল্লেখ্য সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির মুক্তিযোদ্ধাসহ ৩০ শতাংশ কোটা বাতিলকে অবৈধ ঘোষণা করার ফলে সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাক‌রি‌তে মুক্তিযোদ্ধাদের ৩০ শতাংশ কোটা পুনর্বহাল করেন হাইকোর্ট। বুধবার (৫ই জুন) দুপু‌রে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ সাইফুজ্জামান জামান সাংবা‌দিক‌দের এ তথ‌্য নি‌শ্চিত ক‌রে‌ন।

আরও পড়ুন>>দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের বদলি কোনো শাস্তি হতে পারে না: মোমেন

এর আগে ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সরকারি দপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত বা আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন করপোরেশনে চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের বিদ্যমান কোটাপদ্ধতি সংশোধন করে পরিপত্র জারি করে। ১৯৯৭ সালের ১৭ মার্চের স্মারক সংশোধন করে জারি করা পরিপত্রের ভাষ্যমতে, ৯ম গ্রেড (পূর্বতন ১ম শ্রেণি) এবং ১০ম-১৩তম গ্রেডের (পূর্বতন ২য় শ্রেণি) পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধারভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হবে এবং ৯ম গ্রেড (পূর্বতন ১ম শ্রেণি) এবং ১০ম-১৩তম গ্রেডের (পূর্বতন ২য় শ্রেণি) পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কোটাপদ্ধতি বাতিল করা হলো।

ওই পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০২১ সালে রিট করেন চাকরি প্রত্যাশী ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান অহিদুল ইসলামসহ সাতজন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০২১ সালের ৬ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রুল দেন। রুলে ওই পরিপত্র কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। চূড়ান্ত শুনানি শেষে রুল অ্যাবসলিউট (যথাযথ) ঘোষণা করে রায় দেয়া হয়।