ঢাকা ০১:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নান্দাইলে চাঞ্চল্যকর ইদ্রিস আলী হত্যার প্রধান আসামি গ্রেফতার

Spread the love

ময়মনসিংহের নান্দাইলে চাঞ্চল্যকর ইদ্রিস আলী হত্যার(৫৫) প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। জমিজমা সংক্রান্তে পূর্বশত্রুতার জেরে খুন হন ইদ্রিস আলী এমনটাই জানিয়েছেন র‍্যাব-১৪।

বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে অধিনায়ক র‍্যাব-১৪, ময়মনসিংহ এর নির্দেশক্রমে র‍্যাব-১৪, সিপিএসসি, ময়মনসিংহ এর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ জাহিদুল ইসলাম, স্কোয়াড কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার মুহাঃ জাহিদ হাসান ও র‍্যাব-১০ এর সহকারী পুলিশ সুপার এমজে সোহেল এর নেতৃত্বে একটি যৌথাভিযানিক দল শুক্রবার(২৮ জুন) দুপুর অনুমান সাড়ে ১২টায় ডিএমপি, ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানাধীন রায়েরবাগ ফুটওভার ব্রীজের নিচে নারায়ণগঞ্জ টু যাত্রাবাড়ী রাস্তার উপর অভিযান পরিচালনা করে ইদ্রিস আলী (৫৫) হত্যার মূলহোতা এজাহারনামীয় ১নং পলাতক আসামি মোঃ সোহরাব উদ্দিন ওরফে বাবলু (৫৫), পিতা-মৃত আঃ রহিম, সাং-সিংরইল কোণাডাংগর, থানা-নান্দাইল, জেলা-ময়মনসিংহ‘কে গ্রেফতার করেন। র‍্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত আসামী উল্লিখিত ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। আসামিকে ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে র‍্যাবের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও জানান র‍্যাব-১৪।

আরও পড়ুন>>ভিনির জোড়া গোলে প্যারাগুয়েকে উড়িয়ে দিল ব্রাজিল

উল্লেখ্য, ময়মনসিংহের নান্দাইল থানাধীন ৮নং সিংহরাইল ইউনিয়নের কোণাডাংগর গ্রামস্থ বাদী ও আসামিরা পরস্পর বসবাস করতো। জমি-জমা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবত বিরোধ ছিল। বাদীর পিতা মফিজ উদ্দিন জমি-জমা সংক্রান্তে বিবাদীদের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়ের করার কারণে আসামিরা বাদীর পরিবারের লোকজনের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনার দিন ২১ জুন সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯ টায় বিবাদীরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হাতে রামদা, দা, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাদীর বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে আক্রমণ চালায়। ১নং আসামী মোঃ সোহরাব উদ্দিন ওরফে বাবলু অন্যান্য আসামীদেরকে হুকুম দিলে ০৭ নং আসামী রাজন মিয়া(২৭) খুন করার উদ্দেশ্যে রামদা দিয়ে বাদীকে সজোরে আঘাত করে। একপর্যায়ে, বাদী মোঃ বদিউল আলম বাদল (৪৫) দৌড়ে পালিয়ে প্রাণে রক্ষা পায়। ঐ সময় বাদীর বড় ভাই ও ভাই বৌ এগিয়ে আসলে বিবাদীরা বাদীর বড় ভাইকে এলোপাথাড়ি পেটায় এবং ভাইবৌকে শ্লীলতাহানি করে। তাদের চিৎকার চেঁচামেচিতে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে আসামিরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
আরও পড়ুন>>সাংবাদিককে হুমকি দিলো ‘কুত্তামারা মাসুদ’, থানায় জিডি
একই দিনে সকাল অনুমান সাড়ে ১১ টায় বাদীর অপর ভাই মোঃ ইদ্রিস আলী (৫৫) বাজার করে বাড়ীতে আসার সময় আসামীরা তার পথরোধ করে চর্তুদিক হতে ঘেরাও করে অতর্কিতভাবে হামলা শুরু করে। একপর্যায়ে, ২নং আসামী সবুজ মিয়া তার কোমরে থাকা গামছা দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে টানাহেচড়া শুরু করে এবং ১ নং আসামী মোঃ সোহরাব উদ্দিন ওরফে বাবলু হত্যার উদ্দেশ্যে বাদীর বড় ভাই ইদ্রিস আলীর অন্ডকোষ চেপে ধরে। এছাড়াও অন্যান্য আসামীরা তাদের কাছে থাকা লোহার রড দিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় এলোপাথাড়িভাবে মারপিঠ করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। এমন কর্মকান্ড দেখে আশপাশের লোকজন আসলে আসামীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চলে যায়। ঘটনার পরপরই আশপাশের লোকজন মোঃ ইদ্রিস আলীর অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে দ্রুত কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে। এ ঘটনায় ময়মনসিংহের নান্দাইল থানা এলাকাসহ সারাদেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। নিহতের ছোট ভাই মো: বদিউল আলম বাদল (৪৫), পিতাঃ মৃত মফিজ উদ্দিন, সাং- সিংরইল কোনাডাংগর, থানা- নান্দাইল, জেলা- ময়মনসিংহ বাদী হয়ে ১৪ জনসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৪/৫ জনকে আসামি করে ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন যার মামলা নং-১৭ তারিখ-২২/০৬/২৪, ধারা-১৪৩/৩৪১/৪৪৭/৩২৩/৩২৪/৩২৬/ ৩০৭/৩০২/ ৩৫৪/১১৪/৫০৬ পেনাল কোড ১৮৬০। মামলার পর থেকে আসামিরা গা ঢাকা দিয়ে পলাতক ছিলো।

আরও পড়ুন>>সিলেট-সুনামগঞ্জে ফের বন্যার শঙ্কা

র‍্যাব-১৪ এর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ জাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে র‍্যাব  জঙ্গি, সন্ত্রাস, মাদক, অস্ত্র, অপহরণ, হত্যা, নারী নির্যাতন ও ধর্ষণসহ বিভিন্ন প্রকার অবৈধ কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানে থেকে কাজ করে যাচ্ছে, যা দেশের সর্বস্তরের জনসাধারণ কর্তৃক ইতোমধ্যেই বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। র‍্যাব-১৪ এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিভিন্ন হত্যা সংক্রান্ত অপরাধ কর্মকান্ড দমনের লক্ষ্যে র‍্যাব ফোর্সেস অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে হত্যার মতো জঘন্য কাজ থেকে সমাজ তথা দেশকে বাঁচাতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নান্দাইলে চাঞ্চল্যকর ইদ্রিস আলী হত্যার প্রধান আসামি গ্রেফতার

আপডেট সময় : ১০:৪০:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ জুন ২০২৪
Spread the love

ময়মনসিংহের নান্দাইলে চাঞ্চল্যকর ইদ্রিস আলী হত্যার(৫৫) প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। জমিজমা সংক্রান্তে পূর্বশত্রুতার জেরে খুন হন ইদ্রিস আলী এমনটাই জানিয়েছেন র‍্যাব-১৪।

বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে অধিনায়ক র‍্যাব-১৪, ময়মনসিংহ এর নির্দেশক্রমে র‍্যাব-১৪, সিপিএসসি, ময়মনসিংহ এর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ জাহিদুল ইসলাম, স্কোয়াড কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার মুহাঃ জাহিদ হাসান ও র‍্যাব-১০ এর সহকারী পুলিশ সুপার এমজে সোহেল এর নেতৃত্বে একটি যৌথাভিযানিক দল শুক্রবার(২৮ জুন) দুপুর অনুমান সাড়ে ১২টায় ডিএমপি, ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানাধীন রায়েরবাগ ফুটওভার ব্রীজের নিচে নারায়ণগঞ্জ টু যাত্রাবাড়ী রাস্তার উপর অভিযান পরিচালনা করে ইদ্রিস আলী (৫৫) হত্যার মূলহোতা এজাহারনামীয় ১নং পলাতক আসামি মোঃ সোহরাব উদ্দিন ওরফে বাবলু (৫৫), পিতা-মৃত আঃ রহিম, সাং-সিংরইল কোণাডাংগর, থানা-নান্দাইল, জেলা-ময়মনসিংহ‘কে গ্রেফতার করেন। র‍্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত আসামী উল্লিখিত ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। আসামিকে ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে র‍্যাবের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও জানান র‍্যাব-১৪।

আরও পড়ুন>>ভিনির জোড়া গোলে প্যারাগুয়েকে উড়িয়ে দিল ব্রাজিল

উল্লেখ্য, ময়মনসিংহের নান্দাইল থানাধীন ৮নং সিংহরাইল ইউনিয়নের কোণাডাংগর গ্রামস্থ বাদী ও আসামিরা পরস্পর বসবাস করতো। জমি-জমা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবত বিরোধ ছিল। বাদীর পিতা মফিজ উদ্দিন জমি-জমা সংক্রান্তে বিবাদীদের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়ের করার কারণে আসামিরা বাদীর পরিবারের লোকজনের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনার দিন ২১ জুন সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯ টায় বিবাদীরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হাতে রামদা, দা, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাদীর বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে আক্রমণ চালায়। ১নং আসামী মোঃ সোহরাব উদ্দিন ওরফে বাবলু অন্যান্য আসামীদেরকে হুকুম দিলে ০৭ নং আসামী রাজন মিয়া(২৭) খুন করার উদ্দেশ্যে রামদা দিয়ে বাদীকে সজোরে আঘাত করে। একপর্যায়ে, বাদী মোঃ বদিউল আলম বাদল (৪৫) দৌড়ে পালিয়ে প্রাণে রক্ষা পায়। ঐ সময় বাদীর বড় ভাই ও ভাই বৌ এগিয়ে আসলে বিবাদীরা বাদীর বড় ভাইকে এলোপাথাড়ি পেটায় এবং ভাইবৌকে শ্লীলতাহানি করে। তাদের চিৎকার চেঁচামেচিতে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে আসামিরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
আরও পড়ুন>>সাংবাদিককে হুমকি দিলো ‘কুত্তামারা মাসুদ’, থানায় জিডি
একই দিনে সকাল অনুমান সাড়ে ১১ টায় বাদীর অপর ভাই মোঃ ইদ্রিস আলী (৫৫) বাজার করে বাড়ীতে আসার সময় আসামীরা তার পথরোধ করে চর্তুদিক হতে ঘেরাও করে অতর্কিতভাবে হামলা শুরু করে। একপর্যায়ে, ২নং আসামী সবুজ মিয়া তার কোমরে থাকা গামছা দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে টানাহেচড়া শুরু করে এবং ১ নং আসামী মোঃ সোহরাব উদ্দিন ওরফে বাবলু হত্যার উদ্দেশ্যে বাদীর বড় ভাই ইদ্রিস আলীর অন্ডকোষ চেপে ধরে। এছাড়াও অন্যান্য আসামীরা তাদের কাছে থাকা লোহার রড দিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় এলোপাথাড়িভাবে মারপিঠ করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। এমন কর্মকান্ড দেখে আশপাশের লোকজন আসলে আসামীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চলে যায়। ঘটনার পরপরই আশপাশের লোকজন মোঃ ইদ্রিস আলীর অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে দ্রুত কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে। এ ঘটনায় ময়মনসিংহের নান্দাইল থানা এলাকাসহ সারাদেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। নিহতের ছোট ভাই মো: বদিউল আলম বাদল (৪৫), পিতাঃ মৃত মফিজ উদ্দিন, সাং- সিংরইল কোনাডাংগর, থানা- নান্দাইল, জেলা- ময়মনসিংহ বাদী হয়ে ১৪ জনসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৪/৫ জনকে আসামি করে ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন যার মামলা নং-১৭ তারিখ-২২/০৬/২৪, ধারা-১৪৩/৩৪১/৪৪৭/৩২৩/৩২৪/৩২৬/ ৩০৭/৩০২/ ৩৫৪/১১৪/৫০৬ পেনাল কোড ১৮৬০। মামলার পর থেকে আসামিরা গা ঢাকা দিয়ে পলাতক ছিলো।

আরও পড়ুন>>সিলেট-সুনামগঞ্জে ফের বন্যার শঙ্কা

র‍্যাব-১৪ এর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ জাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে র‍্যাব  জঙ্গি, সন্ত্রাস, মাদক, অস্ত্র, অপহরণ, হত্যা, নারী নির্যাতন ও ধর্ষণসহ বিভিন্ন প্রকার অবৈধ কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানে থেকে কাজ করে যাচ্ছে, যা দেশের সর্বস্তরের জনসাধারণ কর্তৃক ইতোমধ্যেই বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। র‍্যাব-১৪ এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিভিন্ন হত্যা সংক্রান্ত অপরাধ কর্মকান্ড দমনের লক্ষ্যে র‍্যাব ফোর্সেস অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে হত্যার মতো জঘন্য কাজ থেকে সমাজ তথা দেশকে বাঁচাতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে।