ঢাকা ১০:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বনের গোলফল এখন বানিজ্যলয়ে!

  • সংবাদদাতা
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৫:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  • ৫৩৯ বার পড়া হয়েছে
Spread the love

উপকুলীয় সংবাদদাতাঃ
উপকুলীয় অঞ্চলের বিখ্যাত পামজাতীয় উদ্ভিদ গোলপাতা। সুন্দরবনঘেঁষা এলাকা ছাড়াও বাগেরহাট জেলা সদর, মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা, রামপাল ও চিতলমারি এলাকার নদী-নালা ও খাল-বিলের পাশে জন্মে গাছটি। মূলত ঘর ছাউনির কাজে ব্যবহৃত হয় এই গাছের পাতা। শখের বসেই গোলফল খাওয়ার চল ছিল উপকূলবর্তী স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মাঝে
তালশাঁসের মতো দেখতে এক ফল নিয়ে ভ্যানের ওপর বসেছেন আব্দুর রহমান শেখ। বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ মসজিদের সামনে তার ভ্যানকে ঘিরে বেশ কয়েকজন উৎসুক পর্যটকের জটলা। কেউ জানতে চাইছেন ফলের আদ্যোপান্ত, কেউ করছেন ভিডিও। আব্দুর রহমানও সোৎসাহে প্রত্যেককে বর্ণনা করছেন বিচিত্র সেই ফলের বিস্তারিত, “সুন্দরবনের গোলপাতা গাছের নাম শুনছেন তো? সেই গোলপাতার ফল এইটা। তালের শাঁসের চেয়েও পুষ্টিকর ফল। শরীরের নানান ব্যথা, ডায়বেটিস, চর্মরোগে ওষুধের কাজ করে গোলফল। খাইলেই শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যায়। বাংলাদেশে আমিই এইটা বিক্রি উদ্বোধন করছি।”

ম্যানগ্রোভ অঞ্চলের বিখ্যাত পামজাতীয় উদ্ভিদ গোলপাতা। সুন্দরবনঘেঁষা এলাকা ছাড়াও বাগেরহাট জেলা সদর, মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা, রামপাল ও চিতলমারি এলাকার নদী-নালা ও খাল-বিলের পাশে জন্মে গাছটি। মূলত ঘর ছাউনির কাজে ব্যবহৃত হয় এই গাছের পাতা। শখের বসেই গোলফল খাওয়ার চল ছিল উপকূলবর্তী স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মাঝে। সুন্দরবনের অঞ্চল ছাড়া দেশের অন্যান্য প্রান্তের মানুষের কাছে অনেকটাই অপরিচিত এই ফল। সম্প্রতি আব্দুর রহমানের উদ্যোগে বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদ ঘুরতে আসা বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের কাছে পরিচিতি বাড়ছে গোলফলের।

ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন বাগেরহাট সদর উপজেলার সুন্দরঘোনা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহমান শেখ। প্রায় নয় বছর আগে গ্যাংগ্রিনে আক্রান্ত হয়ে দুই পা হারান তিনি। পঙ্গু অবস্থায় ভ্যান টেনে ছয় ছেলে-মেয়েসহ সংসারের খরচ বহন করতে যখন হিমশিম খাচ্ছিলেন তখনই এই গোলফল বিক্রির চিন্তা মাথায় আসে তার। বছর চারেক আগে ছোট ছেলেকে নিয়ে আশেপাশের এলাকার নদীর পাড়ে জন্মানো গোল গাছ থেকে ফলের কাঁদি কেটে এনে ষাটগম্বুজ মসজিদের সামনে বিক্রি করতে শুরু করেন তিনি।

গোলগাছে এক কাঁদিতে থাকে ৫০ থেকে ১৫০টির মতো ফল।
তালসদৃশ ফলটি নিয়ে পর্যটকদের কাছে অচিরেই বেশ ভালো সাড়া পান আব্দুর রহমান। লম্বায় তিন থেকে চার ইঞ্চি ফলগুলো দেখতে কিছুটা ছোট আকৃতির নারকেলের মতো। গোলফলের এক কাঁদিতে প্রায় ৫০-১৫০টির মতো ফল থাকে। শক্ত খোসা কেটে অপরিপক্ক নরম আঁটিগুলোকে খাওয়া হয় ফল হিসেবে। সাদা রঙের আঁটিগুলো স্বাদে অনেকটা তালশাঁসের মতোই। ঘ্রাণ কিছুটা অন্যরকম।

ম্যানগ্রোভ অঞ্চলে নদী-নালা ও খাল-বিলের পাশে জন্মে গোলগাছ। ছবি: শেহেরীন আমিন সুপ্তি
গোলফল বিক্রি করে প্রতিদিন প্রায় এক থেকে দেড় হাজার টাকা আয় করেন ৬৫ বছর বয়সী আব্দুর রহমান শেখ। ছুটির দিনে মসজিদে পর্যটকের ভিড় বাড়লে দৈনিক বিক্রি গড়ায় তিন থেকে চার হাজার টাকাতেও। প্রতি আঁটির দাম রাখেন ১০ টাকা। এক প্যাকেট বিক্রি করেন ৫০ টাকায়। বাগেরহাটের বিভিন্ন উপজেলা থেকে গোলফল সংগ্রহ করেন তিনি। স্থানীয় কারো বাড়িতে গোল গাছ থাকলে সেখান থেকে প্রতি কাঁদি কিনে আনেন ৩০-৫০ টাকায়। স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে রোজ বেলা ১২টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ষাটগম্বুজ মসজিদের সামনে বসে গোলফল বিক্রি করেন তিনি।

ঢাকা থেকে সন্তানদের নিয়ে বাগেরহাটে ঘুরতে এসেছিলেন রুবেল ইসলাম। ষাটগম্বুজ মসজিদের সামনে প্রথমবার গোলফল খেয়েছেন তিনি। অপ্রচলিত এই ফল সম্পর্কে তিনি বলেন, “বাচ্চাদের নতুন একটা ফলের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে পারলাম, তাই ভালো লাগছে। গোলপাতার নাম শুনলেও আগে কখনো এর ফলের কথা শুনিনি। খেতে তাল কিংবা নারকেল শাঁসের মতো অনেকটাই।”

ময়মনসিংহ থেকে আসা আরেক পর্যটক মৌ নিজের বাড়ির জন্যও কিনে নিয়েছেন গোলফলের কাঁদি। তিনি বলেন, “বাগেরহাটের স্থানীয় নিদর্শনস্বরূপ নিয়ে যাচ্ছি এই ফল। নতুন ধরনের এই ফল দেখে পরিবারের লোকজন বেশ চমকে যাবে।”

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার মো: আব্দুলাহ আল-মামুন জানান, “কয়েকবছর আগে সুন্দরবন অঞ্চলের গোলগাছের রস থেকে গুড় বানিয়ে এর বাণিজ্যিক প্রচলনের চেষ্টা করেছিলাম আমরা। এই গুড়ে সুগারের পরিমাণ কম থাকায় স্বল্প মাত্রায় ডায়বেটিস থাকা রোগীদের জন্যও নিরাপদ। তবে গোলফলের বাণ্যিজ্যিক প্রচলন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক বা বড় কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি এখনো।”

উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলোতে গোল গাছের আধিক্য থাকলেও বৃহৎ পরিসরে এর ফলের বাণিজ্যিক বিপণন না হওয়ার কারণ জানতে চেয়েছিলাম বাগেরহাটের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের শরণখোলা উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা দেবব্রত সরকারের কাছে। তিনি জানালেন, প্রাকৃতিকভাবে মূলত সুন্দরবনের ভেতরে ঝোপ আকারে বেশিরভাগ গোলগাছ দেখা যায়। বনবিভাগের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে প্রতিবছর কিছু নির্দিষ্ট সংখ্যক বাওয়ালি এখান থেকে গোলপাতা সংগ্রহ করতে পারেন। তাও বছরের নির্ধারিত সময়ের বাইরে গোলপাতা আহরণ নিষিদ্ধ। বনের ভেতরে ঢোকার সময়টা সীমিত বলে বেশি পরিমাণে গোলফলও সংগ্রহ করার সুযোগ পাওয়া যায় না।

তার ভাষ্যে, “এই ফলটি এতদিন স্থানীয়রাই খেত। এখন অবশ্য আঞ্চলিক ফলের কদর বাড়ছে দেশজুড়ে শৌখিন মানুষদের কাছে। প্রচুর ভিটামিন ও অ্যান্টি অক্সিডেন্টের উৎস এই গোলফল। এছাড়াও অ্যান্টি অ্যালার্জিক উপাদান থাকায় চর্মরোগের জন্য উপকারি এটি। তাই স্বাস্থ্য সচেতন মানুষেরা এর প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন এবং দিনদিন গোলফলের চাহিদা ও বাণ্যিজিক প্রচলনও বাড়বে এমনটাই প্রত্যাশা চাষীদের।

জনপ্রিয় সংবাদ

বনের গোলফল এখন বানিজ্যলয়ে!

আপডেট সময় : ০৬:৫৫:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩
Spread the love

উপকুলীয় সংবাদদাতাঃ
উপকুলীয় অঞ্চলের বিখ্যাত পামজাতীয় উদ্ভিদ গোলপাতা। সুন্দরবনঘেঁষা এলাকা ছাড়াও বাগেরহাট জেলা সদর, মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা, রামপাল ও চিতলমারি এলাকার নদী-নালা ও খাল-বিলের পাশে জন্মে গাছটি। মূলত ঘর ছাউনির কাজে ব্যবহৃত হয় এই গাছের পাতা। শখের বসেই গোলফল খাওয়ার চল ছিল উপকূলবর্তী স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মাঝে
তালশাঁসের মতো দেখতে এক ফল নিয়ে ভ্যানের ওপর বসেছেন আব্দুর রহমান শেখ। বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ মসজিদের সামনে তার ভ্যানকে ঘিরে বেশ কয়েকজন উৎসুক পর্যটকের জটলা। কেউ জানতে চাইছেন ফলের আদ্যোপান্ত, কেউ করছেন ভিডিও। আব্দুর রহমানও সোৎসাহে প্রত্যেককে বর্ণনা করছেন বিচিত্র সেই ফলের বিস্তারিত, “সুন্দরবনের গোলপাতা গাছের নাম শুনছেন তো? সেই গোলপাতার ফল এইটা। তালের শাঁসের চেয়েও পুষ্টিকর ফল। শরীরের নানান ব্যথা, ডায়বেটিস, চর্মরোগে ওষুধের কাজ করে গোলফল। খাইলেই শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যায়। বাংলাদেশে আমিই এইটা বিক্রি উদ্বোধন করছি।”

ম্যানগ্রোভ অঞ্চলের বিখ্যাত পামজাতীয় উদ্ভিদ গোলপাতা। সুন্দরবনঘেঁষা এলাকা ছাড়াও বাগেরহাট জেলা সদর, মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা, রামপাল ও চিতলমারি এলাকার নদী-নালা ও খাল-বিলের পাশে জন্মে গাছটি। মূলত ঘর ছাউনির কাজে ব্যবহৃত হয় এই গাছের পাতা। শখের বসেই গোলফল খাওয়ার চল ছিল উপকূলবর্তী স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মাঝে। সুন্দরবনের অঞ্চল ছাড়া দেশের অন্যান্য প্রান্তের মানুষের কাছে অনেকটাই অপরিচিত এই ফল। সম্প্রতি আব্দুর রহমানের উদ্যোগে বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদ ঘুরতে আসা বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের কাছে পরিচিতি বাড়ছে গোলফলের।

ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন বাগেরহাট সদর উপজেলার সুন্দরঘোনা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহমান শেখ। প্রায় নয় বছর আগে গ্যাংগ্রিনে আক্রান্ত হয়ে দুই পা হারান তিনি। পঙ্গু অবস্থায় ভ্যান টেনে ছয় ছেলে-মেয়েসহ সংসারের খরচ বহন করতে যখন হিমশিম খাচ্ছিলেন তখনই এই গোলফল বিক্রির চিন্তা মাথায় আসে তার। বছর চারেক আগে ছোট ছেলেকে নিয়ে আশেপাশের এলাকার নদীর পাড়ে জন্মানো গোল গাছ থেকে ফলের কাঁদি কেটে এনে ষাটগম্বুজ মসজিদের সামনে বিক্রি করতে শুরু করেন তিনি।

গোলগাছে এক কাঁদিতে থাকে ৫০ থেকে ১৫০টির মতো ফল।
তালসদৃশ ফলটি নিয়ে পর্যটকদের কাছে অচিরেই বেশ ভালো সাড়া পান আব্দুর রহমান। লম্বায় তিন থেকে চার ইঞ্চি ফলগুলো দেখতে কিছুটা ছোট আকৃতির নারকেলের মতো। গোলফলের এক কাঁদিতে প্রায় ৫০-১৫০টির মতো ফল থাকে। শক্ত খোসা কেটে অপরিপক্ক নরম আঁটিগুলোকে খাওয়া হয় ফল হিসেবে। সাদা রঙের আঁটিগুলো স্বাদে অনেকটা তালশাঁসের মতোই। ঘ্রাণ কিছুটা অন্যরকম।

ম্যানগ্রোভ অঞ্চলে নদী-নালা ও খাল-বিলের পাশে জন্মে গোলগাছ। ছবি: শেহেরীন আমিন সুপ্তি
গোলফল বিক্রি করে প্রতিদিন প্রায় এক থেকে দেড় হাজার টাকা আয় করেন ৬৫ বছর বয়সী আব্দুর রহমান শেখ। ছুটির দিনে মসজিদে পর্যটকের ভিড় বাড়লে দৈনিক বিক্রি গড়ায় তিন থেকে চার হাজার টাকাতেও। প্রতি আঁটির দাম রাখেন ১০ টাকা। এক প্যাকেট বিক্রি করেন ৫০ টাকায়। বাগেরহাটের বিভিন্ন উপজেলা থেকে গোলফল সংগ্রহ করেন তিনি। স্থানীয় কারো বাড়িতে গোল গাছ থাকলে সেখান থেকে প্রতি কাঁদি কিনে আনেন ৩০-৫০ টাকায়। স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে রোজ বেলা ১২টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ষাটগম্বুজ মসজিদের সামনে বসে গোলফল বিক্রি করেন তিনি।

ঢাকা থেকে সন্তানদের নিয়ে বাগেরহাটে ঘুরতে এসেছিলেন রুবেল ইসলাম। ষাটগম্বুজ মসজিদের সামনে প্রথমবার গোলফল খেয়েছেন তিনি। অপ্রচলিত এই ফল সম্পর্কে তিনি বলেন, “বাচ্চাদের নতুন একটা ফলের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে পারলাম, তাই ভালো লাগছে। গোলপাতার নাম শুনলেও আগে কখনো এর ফলের কথা শুনিনি। খেতে তাল কিংবা নারকেল শাঁসের মতো অনেকটাই।”

ময়মনসিংহ থেকে আসা আরেক পর্যটক মৌ নিজের বাড়ির জন্যও কিনে নিয়েছেন গোলফলের কাঁদি। তিনি বলেন, “বাগেরহাটের স্থানীয় নিদর্শনস্বরূপ নিয়ে যাচ্ছি এই ফল। নতুন ধরনের এই ফল দেখে পরিবারের লোকজন বেশ চমকে যাবে।”

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার মো: আব্দুলাহ আল-মামুন জানান, “কয়েকবছর আগে সুন্দরবন অঞ্চলের গোলগাছের রস থেকে গুড় বানিয়ে এর বাণিজ্যিক প্রচলনের চেষ্টা করেছিলাম আমরা। এই গুড়ে সুগারের পরিমাণ কম থাকায় স্বল্প মাত্রায় ডায়বেটিস থাকা রোগীদের জন্যও নিরাপদ। তবে গোলফলের বাণ্যিজ্যিক প্রচলন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক বা বড় কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি এখনো।”

উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলোতে গোল গাছের আধিক্য থাকলেও বৃহৎ পরিসরে এর ফলের বাণিজ্যিক বিপণন না হওয়ার কারণ জানতে চেয়েছিলাম বাগেরহাটের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের শরণখোলা উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা দেবব্রত সরকারের কাছে। তিনি জানালেন, প্রাকৃতিকভাবে মূলত সুন্দরবনের ভেতরে ঝোপ আকারে বেশিরভাগ গোলগাছ দেখা যায়। বনবিভাগের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে প্রতিবছর কিছু নির্দিষ্ট সংখ্যক বাওয়ালি এখান থেকে গোলপাতা সংগ্রহ করতে পারেন। তাও বছরের নির্ধারিত সময়ের বাইরে গোলপাতা আহরণ নিষিদ্ধ। বনের ভেতরে ঢোকার সময়টা সীমিত বলে বেশি পরিমাণে গোলফলও সংগ্রহ করার সুযোগ পাওয়া যায় না।

তার ভাষ্যে, “এই ফলটি এতদিন স্থানীয়রাই খেত। এখন অবশ্য আঞ্চলিক ফলের কদর বাড়ছে দেশজুড়ে শৌখিন মানুষদের কাছে। প্রচুর ভিটামিন ও অ্যান্টি অক্সিডেন্টের উৎস এই গোলফল। এছাড়াও অ্যান্টি অ্যালার্জিক উপাদান থাকায় চর্মরোগের জন্য উপকারি এটি। তাই স্বাস্থ্য সচেতন মানুষেরা এর প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন এবং দিনদিন গোলফলের চাহিদা ও বাণ্যিজিক প্রচলনও বাড়বে এমনটাই প্রত্যাশা চাষীদের।