ঢাকা ০২:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কুমিল্লায় তানজিন সুলতানা ঝুমুর হত্যাকারী গ্রেফতার

Spread the love

কুমিল্লায় তানজিন সুলতানা ঝুমুর হত্যাকারীকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-১১। গ্রেফতারকৃত আসামির নাম মফিজুল ইসলাম ওরপে মফু(৩৮)। সে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার গলিয়ারা ইউনিয়ননের, খিলাপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-১১ এর পরিচালক, অধিনায়ক তানভীর মাহমুদ পাশা।

র‌্যাব জানায় গ্রেফতারের পর আসামি মফিজুল ধর্ষণ শেষে শিশুকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছে।

১ মে, বুধবার সকাল ১১টায় র‌্যাব-১১ সিপিসি-২, শাকতলা, কুমিল্লা ক্যাম্পে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, ২৯ এপ্রিল সকালে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার খিলাপাড়া এলাকায় তানজিন সুলতানা ঝুমু (৯) বছরের একটি শিশুকে ধানের জমিতে নিয়ে ধর্ষণ শেষে হত্যা করা হয়।

ঘটনার পর থেকে গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে র‌্যাব-১১ এর একটি দল ৩০ এপ্রিল মঙ্গলবার রাতে চাঁদপুর জেলার শাহারাস্তি থানাধীন ফেরুয়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামি মফিজুল ইসলাম ওরপে মফুকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন।

উল্লেখ্য, গত ২৯ এপ্রিল কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলায় গলিয়ারা ইউনিয়নের সোনালী বিদ্যা শিশু নিকেতন কিন্ডারগার্টেনের ৩য় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল শিশু ঝুমুর। বিদ্যালয় ছুটি শেষে বাড়িতে আসতে দেরি হওয়া তার মা রাজিয়া বেগম তাকে খুঁজতে বের হন। একপর্যায়ে তাকে কোথাও না পেয়ে তার মা সদর দক্ষিন মডেল থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করতে আসেন। ওই মূহুর্তে এলাকা থেকে খবর আসে তার মেয়েকে বাঁশ ঝাড়ের ফসলি ধান ক্ষেতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরবর্তীতে সদর দক্ষিণ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া সঙ্গীয় ফোর্সসহ মেয়েটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তাকে ধর্ষন করে হত্যা করা হয়েছে। পরবর্তীতে লাশ ময়না তদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে হসপিটালে প্রেরণ করা হয়।

র‌্যাব জানান গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, নিহত শিশু গ্রেফতারকৃত আসামীর প্রতিবেশী মেয়ে পূর্ব পরিচিত এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আসামি মফিজুল ইসলাম ওরপে মপু তার অসৎ কামনা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে গত ২৯ এপ্রিল ২০২৪ তারিখ সকাল ১০:৪৫ মিনিটে ঘটনাস্থলের পাশের রাস্তায় আসার অপেক্ষায় ওত পেতে থাকে।

পথিমধ্যে শিশুটি (ঝুমুর) স্কুল থেকে বাসায় ফেরার উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থল এর কাছাকাছি পৌঁছালে গ্রেফতারকৃত আসামি মফিজুল ইসলাম ঝুমুর’কে কৌশলে রাস্তার পাশের ধানী জমিতে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে ঝুমুর চিৎকার করার চেষ্টা করলে আসামি মফিজুল ইসলাম তার মুখ ও গলা চেপে ধরে। এতে ওই শিশুটি ঘটনাস্থলে মারা যায়। অতঃপর আসামি মফিজুল ঝুমুরের কোন নড়াচড়া দেখতে না পেয়ে তার কানে থাকা দুল ছিড়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। উক্ত ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে সদর দক্ষিন মডেল থানায় মামলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

আসামি মফিজুল ইসলাম আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেপ্তার এড়াতে নিজ এলাকা হতে পালিয়ে চাঁদপুরে চলে যায় এবং সেখানে আত্মগোপন করে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায় যে গ্রেফতারকৃত আসামি মফিজুল ইসলাম মাদকাসক্ত তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য গাঁজা সেবনের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়।
পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আসামিকে সদর দক্ষিণ মডেল থমথানায় সপোর্দ করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কুমিল্লায় তানজিন সুলতানা ঝুমুর হত্যাকারী গ্রেফতার

আপডেট সময় : ০৮:৫০:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ মে ২০২৪
Spread the love

কুমিল্লায় তানজিন সুলতানা ঝুমুর হত্যাকারীকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-১১। গ্রেফতারকৃত আসামির নাম মফিজুল ইসলাম ওরপে মফু(৩৮)। সে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার গলিয়ারা ইউনিয়ননের, খিলাপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-১১ এর পরিচালক, অধিনায়ক তানভীর মাহমুদ পাশা।

র‌্যাব জানায় গ্রেফতারের পর আসামি মফিজুল ধর্ষণ শেষে শিশুকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছে।

১ মে, বুধবার সকাল ১১টায় র‌্যাব-১১ সিপিসি-২, শাকতলা, কুমিল্লা ক্যাম্পে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, ২৯ এপ্রিল সকালে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার খিলাপাড়া এলাকায় তানজিন সুলতানা ঝুমু (৯) বছরের একটি শিশুকে ধানের জমিতে নিয়ে ধর্ষণ শেষে হত্যা করা হয়।

ঘটনার পর থেকে গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে র‌্যাব-১১ এর একটি দল ৩০ এপ্রিল মঙ্গলবার রাতে চাঁদপুর জেলার শাহারাস্তি থানাধীন ফেরুয়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামি মফিজুল ইসলাম ওরপে মফুকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন।

উল্লেখ্য, গত ২৯ এপ্রিল কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলায় গলিয়ারা ইউনিয়নের সোনালী বিদ্যা শিশু নিকেতন কিন্ডারগার্টেনের ৩য় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল শিশু ঝুমুর। বিদ্যালয় ছুটি শেষে বাড়িতে আসতে দেরি হওয়া তার মা রাজিয়া বেগম তাকে খুঁজতে বের হন। একপর্যায়ে তাকে কোথাও না পেয়ে তার মা সদর দক্ষিন মডেল থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করতে আসেন। ওই মূহুর্তে এলাকা থেকে খবর আসে তার মেয়েকে বাঁশ ঝাড়ের ফসলি ধান ক্ষেতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরবর্তীতে সদর দক্ষিণ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া সঙ্গীয় ফোর্সসহ মেয়েটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তাকে ধর্ষন করে হত্যা করা হয়েছে। পরবর্তীতে লাশ ময়না তদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে হসপিটালে প্রেরণ করা হয়।

র‌্যাব জানান গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, নিহত শিশু গ্রেফতারকৃত আসামীর প্রতিবেশী মেয়ে পূর্ব পরিচিত এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আসামি মফিজুল ইসলাম ওরপে মপু তার অসৎ কামনা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে গত ২৯ এপ্রিল ২০২৪ তারিখ সকাল ১০:৪৫ মিনিটে ঘটনাস্থলের পাশের রাস্তায় আসার অপেক্ষায় ওত পেতে থাকে।

পথিমধ্যে শিশুটি (ঝুমুর) স্কুল থেকে বাসায় ফেরার উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থল এর কাছাকাছি পৌঁছালে গ্রেফতারকৃত আসামি মফিজুল ইসলাম ঝুমুর’কে কৌশলে রাস্তার পাশের ধানী জমিতে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে ঝুমুর চিৎকার করার চেষ্টা করলে আসামি মফিজুল ইসলাম তার মুখ ও গলা চেপে ধরে। এতে ওই শিশুটি ঘটনাস্থলে মারা যায়। অতঃপর আসামি মফিজুল ঝুমুরের কোন নড়াচড়া দেখতে না পেয়ে তার কানে থাকা দুল ছিড়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। উক্ত ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে সদর দক্ষিন মডেল থানায় মামলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

আসামি মফিজুল ইসলাম আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেপ্তার এড়াতে নিজ এলাকা হতে পালিয়ে চাঁদপুরে চলে যায় এবং সেখানে আত্মগোপন করে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায় যে গ্রেফতারকৃত আসামি মফিজুল ইসলাম মাদকাসক্ত তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য গাঁজা সেবনের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়।
পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আসামিকে সদর দক্ষিণ মডেল থমথানায় সপোর্দ করা হয়েছে।