ঢাকা ১১:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ভোলায় ভাবি-ভাতিজাকে গলাকেটে হত্যা চেষ্টা

Spread the love

ভোলার ভেদুরিয়া ইউনিয়নে জমি জবরদখলে বাধা দেওয়ায় ভাবি-ভাতিজাকে গলাকেটে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। হত্যাচেষ্টাকারী আল আমিন ভোলা সদরের ভেদুরিয়া ইউনিয়নের মাঝিরহাট বাজারের মাঝিবাড়ি কাওসার মাঝির ছেলে। সে তার নিজের বড় ভাইয়ের স্ত্রী ও ছেলেকে গলায় কোপ দিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে বলে জানা গেছে।

দৈনিক দেশের ডাককে স্থানীয়রা জানান, আল আমিন এলাকায় সন্ত্রাসী লোক বলে পরিচিত। সে এলাকার সন্ত্রাসী, কিশোর গ্যাং ও মাদকচক্র চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় চেয়ারম্যানের প্রশ্রয়ে সে এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে আসছে। এমনকি তার অত্যাচার থেকে নিজ পরিবারের লোকজনও রেহাই পায় না।

এলাকাবাসী আরও জানায়, প্রায়ই মাদকাসক্ত হয়ে বাড়িতে এসে পরিবারের লোকজনের উপরও নানা ধরনের অত্যাচার করে থাকে আল আমিন। নানা ছুতোয় জায়গা জমির ভাগ বাটোয়ারা নিয়েও সে ঝামেলা করে। পারিবারিক, সামাজিক ও গ্রাম্য সালিশে একাধিকবার তাকে সতর্ক করা হলেও সে তা পরোয়া করছে না।

থানায় দায়ের করা অভিযোগে ভুক্তভোগী শাহানা বেগম জানান, ভূমিদস্যু, উচ্ছৃঙ্খল এবং নেশাগ্রস্থ আল আমিন দীর্ঘদিন আমাদের সাথে জমিজমা নিয়ে বিরোধ করে আসছিল। গায়ের জোরে সে আমাদের জমি দখল করার পাঁয়তারা করে আসছে। উক্ত বিবাদের সূত্রে সে আমাদেরকে নানা ধরনের হুমকি দিয়ে আসছিল। আল আমিন আমাদের জমি থেকে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে গায়ের জোরে কাঁঠালসহ বিভিন্ন ফল-ফসল নিয়ে যায়। এতে সে ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে গালিগালাজ করে এবং মারধরও করে। পরে আমার ছেলে আমাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে তাকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার গলায় ধারালো দা ধরে তাকে হত্যার চেষ্টা চালায়। পরে আমাদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানেও আমাদেরকে সে ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী হুমকি-ধমকি দেয়।

শাহানা বেগম বলেন, মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসা আমার ছেলে এখন গুরুতর অবস্থায় রয়েছে। সে এই ঘটনার পর থেকে মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমি চাই, হত্যাচেষ্টাকারীকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হোক।

ভোলা সদর থানা পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে অভিযুক্ত আসামীকে দ্রুত গ্রেফতার করা হবে। এ নিয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে কাজ করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত আল আমিনকে ফোন দেওয়া হলেও সে পলাতক থাকায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তার বাড়িতে গিয়ে খোঁজ করা হলেও অভিযুক্ত আসামীকে পাওয়া যায়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভোলায় ভাবি-ভাতিজাকে গলাকেটে হত্যা চেষ্টা

আপডেট সময় : ০৭:২৯:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৪
Spread the love

ভোলার ভেদুরিয়া ইউনিয়নে জমি জবরদখলে বাধা দেওয়ায় ভাবি-ভাতিজাকে গলাকেটে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। হত্যাচেষ্টাকারী আল আমিন ভোলা সদরের ভেদুরিয়া ইউনিয়নের মাঝিরহাট বাজারের মাঝিবাড়ি কাওসার মাঝির ছেলে। সে তার নিজের বড় ভাইয়ের স্ত্রী ও ছেলেকে গলায় কোপ দিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে বলে জানা গেছে।

দৈনিক দেশের ডাককে স্থানীয়রা জানান, আল আমিন এলাকায় সন্ত্রাসী লোক বলে পরিচিত। সে এলাকার সন্ত্রাসী, কিশোর গ্যাং ও মাদকচক্র চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় চেয়ারম্যানের প্রশ্রয়ে সে এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে আসছে। এমনকি তার অত্যাচার থেকে নিজ পরিবারের লোকজনও রেহাই পায় না।

এলাকাবাসী আরও জানায়, প্রায়ই মাদকাসক্ত হয়ে বাড়িতে এসে পরিবারের লোকজনের উপরও নানা ধরনের অত্যাচার করে থাকে আল আমিন। নানা ছুতোয় জায়গা জমির ভাগ বাটোয়ারা নিয়েও সে ঝামেলা করে। পারিবারিক, সামাজিক ও গ্রাম্য সালিশে একাধিকবার তাকে সতর্ক করা হলেও সে তা পরোয়া করছে না।

থানায় দায়ের করা অভিযোগে ভুক্তভোগী শাহানা বেগম জানান, ভূমিদস্যু, উচ্ছৃঙ্খল এবং নেশাগ্রস্থ আল আমিন দীর্ঘদিন আমাদের সাথে জমিজমা নিয়ে বিরোধ করে আসছিল। গায়ের জোরে সে আমাদের জমি দখল করার পাঁয়তারা করে আসছে। উক্ত বিবাদের সূত্রে সে আমাদেরকে নানা ধরনের হুমকি দিয়ে আসছিল। আল আমিন আমাদের জমি থেকে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে গায়ের জোরে কাঁঠালসহ বিভিন্ন ফল-ফসল নিয়ে যায়। এতে সে ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে গালিগালাজ করে এবং মারধরও করে। পরে আমার ছেলে আমাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে তাকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার গলায় ধারালো দা ধরে তাকে হত্যার চেষ্টা চালায়। পরে আমাদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানেও আমাদেরকে সে ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী হুমকি-ধমকি দেয়।

শাহানা বেগম বলেন, মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসা আমার ছেলে এখন গুরুতর অবস্থায় রয়েছে। সে এই ঘটনার পর থেকে মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমি চাই, হত্যাচেষ্টাকারীকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হোক।

ভোলা সদর থানা পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে অভিযুক্ত আসামীকে দ্রুত গ্রেফতার করা হবে। এ নিয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে কাজ করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত আল আমিনকে ফোন দেওয়া হলেও সে পলাতক থাকায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তার বাড়িতে গিয়ে খোঁজ করা হলেও অভিযুক্ত আসামীকে পাওয়া যায়নি।