ঢাকা ১০:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
উদ্বোধনী বিশেষ আয়োজন

বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা ও স্বাধীনতাকে সম্মান দিতে হবে

Spread the love

বাংলাদেশ নামক স্বাধীন ভূখণ্ড কখনোই সৃষ্টি হতো না, যদি এই জনপদে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম না হতো। শত শত বছর ধরে পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকা বাঙালি জাতির শৃঙ্খলমুক্ত হওয়ার ভাগ্য সেদিনই লেখা হয়ে গিয়েছিল, যেদিন ১৯২০ সালে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মগ্রহণ করেছেন। এরপর থেকেই বাঙালির যত অর্জন, সকল অর্জনের মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি ছিলেন স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা। জাতির পিতার আদর্শ দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য পথপ্রদর্শক। এখন তার অবর্তমানে অসমাপ্ত স্বপ্নগুলো পূরণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পাকিস্তানি শাসনামলে বাঙালি জাতির ওপর নিপীড়ন নির্যাতনের যাঁতাকালে নিষ্পেষিত হওয়ার শুরু থেকেই বঙ্গবন্ধু এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে যে ভাষণ দিয়েছিলেন, সেই ঐতিহাসিক ভাষণের মধ্যদিয়েই বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ বপন হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর সেদিনের ভাষণ স্বাধীনতাকামী মানুষকে প্রেরণা জুগিয়েছিল। বজ্রকণ্ঠের সেই আওয়াজ পাকিস্তানি হানাদার গোষ্ঠীর বুকে কাঁপন ধরিয়েছিল। এর ফলে তারা সর্বকালের ইতিহাসের ভয়াবহ নিধনযজ্ঞের পরিকল্পনা আঁটতে থাকে।

বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা মুছে দেওয়ার চেষ্টায় ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ গণহত্যা শুরু করেছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। তারপর নয় মাসের সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে এসেছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে ব্যাপক গণহত্যা চালিয়ে বাঙালি জাতিকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী যে সশস্ত্র অভিযান পরিচালনা করে, তারই নাম দেওয়া হয়েছিল ‘অপারেশন সার্চলাইট’। এই অভিযানের নির্দেশনামা তৈরি করেন পাকিস্তানের দুই সামরিক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা ও মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী। নির্দেশনামার লিখিত নথি রাখা হয়নি। গণহত্যার সেই পুরো নির্দেশ মুখে মুখে ফরমেশন কমান্ডার বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানানো হয়।

‘অপারেশন সার্চলাইট’ কীভাবে পরিকল্পিত হয়, ১৯৭১ সালের সেই স্মৃতিচারণ করে পাকিস্তানি এক মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা লিখেছেন, ‘১৭ মার্চ, সকাল প্রায় ১০টা বাজে। টিক্কা খান আমাকে ও মেজর জেনারেল ফরমানকে কমান্ড হাউসে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করতে খবর পাঠান। খবর পেয়ে আমরা দুজন টিক্কা খানের সঙ্গে দেখা করি। গিয়ে দেখি, সেখানে জেনারেল আবদুল হামিদ খানও রয়েছেন। টিক্কা খান আমাদের বলেন, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে শেখ মুজিবের সমঝোতা আলোচনা ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে না। প্রেসিডেন্ট চান আমরা যেন সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি গ্রহণ করি এবং সে অনুযায়ী পরিকল্পনা তৈরি করি। এ ছাড়া আর কোনো মৌখিক বা লিখিত নির্দেশনা আমরা পাইনি। আমাদের বলা হয়, পরদিন ১৮ মার্চ বিকেলে আমরা দুজন যেন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে ওই পরিকল্পনা চূড়ান্ত করি। পরদিন সকালেই কার্যালয়ে রাও ফরমান আলীকে নিয়ে বসি। এ অভিযানের নাম দেই অপারেশন সার্চলাইট।’

মার্কিন সাংবাদিক রবার্ট পেইনের লেখায়ও ২৫ মার্চ রাতের ভয়াবহতা উঠে এসেছে। তিনি লিখেছেন, ‘সেই রাতে সাত হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়, গ্রেপ্তার করা হয় আরও তিন হাজার। ঢাকায় ঘটনার শুরু মাত্র হয়েছিল। এরপর সমস্ত পূর্ব পাকিস্তানজুড়ে সৈন্যরা বাড়িয়ে চললো মৃতের সংখ্যা। জ্বালাতে শুরু করলো ঘর-বাড়ি, দোকান-পাট। লুট আর ধ্বংস যেন তাদের নেশায় পরিণত হল। রাস্তায় রাস্তায় পড়ে থাকা মৃতদেহগুলো কাক-শেয়ালের খাবারে পরিণত হল। সমস্ত বাংলাদেশ হয়ে উঠলো শকুনতাড়িত শ্মশান ভূমি।’

এই গণহত্যার স্বীকৃতি খোদ পাকিস্তান সরকার প্রকাশিত দলিলেও আছে। পূর্ব পাকিস্তানের সংকট সম্পর্কে যে শ্বেতপত্র পাকিস্তান সরকার মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রকাশ করেছিল তাতে বলা হয়, ‘১৯৭১ সালের পয়লা মার্চ থেকে ২৫ মার্চ রাত পর্যন্ত এক লাখেরও বেশি মানুষের জীবননাশ হয়েছিল।’ এতকিছুর পরও বিএনপি ও তাদের দোসররা এখনও পাকিস্তান প্রীতিতে মগ্ন হয়ে আছে। বিএনপি মহাসচিবও বলেছেন, পাকিস্তান আমল নাকি খুব ভালো ছিল। সর্বশেষ তাদের দলের একজন ভাইস চেয়ারম্যানও বলেছেন, এখনকার চেয়ে নাকি পাকিস্তান আমল ভালো ছিল! এই হচ্ছে বিএনপি ও তাদের দোসরদের চিরাচরিত চরিত্র।

বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে নয় মাস যুদ্ধ করে বাঙালি জাতির মহান স্বাধীনতা অর্জন হয়েছে। এরপর থেকে বঙ্গবন্ধু সরকার গঠন করলে শুরু হয় দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্র। এমনকি স্বাধীনতার এই মহানায়ককে খুন করে ফেলতেও দ্বিধাবোধ করেনি ষড়যন্ত্রকারীরা। তবে তারা বাংলাদেশকে দাবিয়ে রাখার সেই অসৎ উদ্দেশ্য হাসিল করতে পারেনি তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণে। দেশের জন্য বঙ্গবন্ধু যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, আজ তার অবর্তমানে পিতার স্বপ্ন পূরণে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে আজ বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে চলমান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাদুর পরশে সব কিছু পাল্টে যাচ্ছে। তিনি উন্নয়নের জাদুকর। যেখানেই হাত দেন সেখানেই সোনা ফলে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার অসাধারণ নেতৃত্বে উন্নয়ন ও অর্জনের মাধ্যমে বিশ্বে বাঙালির পরিচয় বদলে দিয়েছেন। একসময় বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য বিশ্ব গণমাধ্যমে স্থান পেত। সে সময় বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ বলেও উল্লেখ করা হতো। এখন বাংলাদেশকে আর দরিদ্র দেশ বলার সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিক সব ধরনের সূচকে বাংলাদেশের অভাবনীয় উন্নয়ন সবার কাছে বিস্ময়কর। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকসহ দেশ-বিদেশের বাঘা বাঘা নেতাদের কাছেও এখন শেখ হাসিনা রোল মডেল।

এরপরও দুঃখজনক বিষয় হলো বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতি সবসময়ই দেশের বিরুদ্ধে। দেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রার বিরুদ্ধে। দেশের বিরুদ্ধে গিয়ে তারা যতই ষড়যন্ত্র করুক বঙ্গবন্ধুকন্যা সেটা হতে দিবেন না। আমরা বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার একেকজন সৈনিক হিসেবে উন্নয়ন অগ্রযাত্রা ব্যাহত হতে দিবো না, দিতে পারি না।

মহান স্বাধীনতার এই দিনে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ অনুসরণ করে অসাম্প্রদায়িক এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ার জন্য আমাদের শপথ নিতে হবে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সকল ষড়যন্ত্রকারীদের পরাজিত করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। একইসাথে এটাও মনে রাখতে হবে যে, বঙ্গবন্ধু এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে এমন স্থানে নিয়ে গেছেন যে, তারা এখন শুধু দলের সম্পদ নন, এদেশের জনগণের অবিসংবাদিত নেতা। সেজন্য দলমত নির্বিশেষে তাদেরকে যথাযথ সম্মান দিতে হবে, সাধারণ জনগণ সেটা দিচ্ছেনও। উন্নত, সমৃদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের বাংলাদেশ গড়তে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই।

লেখক: সংসদ সদস্য, ভোলা-৩

জনপ্রিয় সংবাদ

উদ্বোধনী বিশেষ আয়োজন

বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা ও স্বাধীনতাকে সম্মান দিতে হবে

আপডেট সময় : ০২:২১:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ ২০২৪
Spread the love

বাংলাদেশ নামক স্বাধীন ভূখণ্ড কখনোই সৃষ্টি হতো না, যদি এই জনপদে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম না হতো। শত শত বছর ধরে পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকা বাঙালি জাতির শৃঙ্খলমুক্ত হওয়ার ভাগ্য সেদিনই লেখা হয়ে গিয়েছিল, যেদিন ১৯২০ সালে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মগ্রহণ করেছেন। এরপর থেকেই বাঙালির যত অর্জন, সকল অর্জনের মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি ছিলেন স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা। জাতির পিতার আদর্শ দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য পথপ্রদর্শক। এখন তার অবর্তমানে অসমাপ্ত স্বপ্নগুলো পূরণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পাকিস্তানি শাসনামলে বাঙালি জাতির ওপর নিপীড়ন নির্যাতনের যাঁতাকালে নিষ্পেষিত হওয়ার শুরু থেকেই বঙ্গবন্ধু এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে যে ভাষণ দিয়েছিলেন, সেই ঐতিহাসিক ভাষণের মধ্যদিয়েই বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ বপন হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর সেদিনের ভাষণ স্বাধীনতাকামী মানুষকে প্রেরণা জুগিয়েছিল। বজ্রকণ্ঠের সেই আওয়াজ পাকিস্তানি হানাদার গোষ্ঠীর বুকে কাঁপন ধরিয়েছিল। এর ফলে তারা সর্বকালের ইতিহাসের ভয়াবহ নিধনযজ্ঞের পরিকল্পনা আঁটতে থাকে।

বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা মুছে দেওয়ার চেষ্টায় ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ গণহত্যা শুরু করেছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। তারপর নয় মাসের সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে এসেছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে ব্যাপক গণহত্যা চালিয়ে বাঙালি জাতিকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী যে সশস্ত্র অভিযান পরিচালনা করে, তারই নাম দেওয়া হয়েছিল ‘অপারেশন সার্চলাইট’। এই অভিযানের নির্দেশনামা তৈরি করেন পাকিস্তানের দুই সামরিক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা ও মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী। নির্দেশনামার লিখিত নথি রাখা হয়নি। গণহত্যার সেই পুরো নির্দেশ মুখে মুখে ফরমেশন কমান্ডার বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানানো হয়।

‘অপারেশন সার্চলাইট’ কীভাবে পরিকল্পিত হয়, ১৯৭১ সালের সেই স্মৃতিচারণ করে পাকিস্তানি এক মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা লিখেছেন, ‘১৭ মার্চ, সকাল প্রায় ১০টা বাজে। টিক্কা খান আমাকে ও মেজর জেনারেল ফরমানকে কমান্ড হাউসে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করতে খবর পাঠান। খবর পেয়ে আমরা দুজন টিক্কা খানের সঙ্গে দেখা করি। গিয়ে দেখি, সেখানে জেনারেল আবদুল হামিদ খানও রয়েছেন। টিক্কা খান আমাদের বলেন, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে শেখ মুজিবের সমঝোতা আলোচনা ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে না। প্রেসিডেন্ট চান আমরা যেন সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি গ্রহণ করি এবং সে অনুযায়ী পরিকল্পনা তৈরি করি। এ ছাড়া আর কোনো মৌখিক বা লিখিত নির্দেশনা আমরা পাইনি। আমাদের বলা হয়, পরদিন ১৮ মার্চ বিকেলে আমরা দুজন যেন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে ওই পরিকল্পনা চূড়ান্ত করি। পরদিন সকালেই কার্যালয়ে রাও ফরমান আলীকে নিয়ে বসি। এ অভিযানের নাম দেই অপারেশন সার্চলাইট।’

মার্কিন সাংবাদিক রবার্ট পেইনের লেখায়ও ২৫ মার্চ রাতের ভয়াবহতা উঠে এসেছে। তিনি লিখেছেন, ‘সেই রাতে সাত হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়, গ্রেপ্তার করা হয় আরও তিন হাজার। ঢাকায় ঘটনার শুরু মাত্র হয়েছিল। এরপর সমস্ত পূর্ব পাকিস্তানজুড়ে সৈন্যরা বাড়িয়ে চললো মৃতের সংখ্যা। জ্বালাতে শুরু করলো ঘর-বাড়ি, দোকান-পাট। লুট আর ধ্বংস যেন তাদের নেশায় পরিণত হল। রাস্তায় রাস্তায় পড়ে থাকা মৃতদেহগুলো কাক-শেয়ালের খাবারে পরিণত হল। সমস্ত বাংলাদেশ হয়ে উঠলো শকুনতাড়িত শ্মশান ভূমি।’

এই গণহত্যার স্বীকৃতি খোদ পাকিস্তান সরকার প্রকাশিত দলিলেও আছে। পূর্ব পাকিস্তানের সংকট সম্পর্কে যে শ্বেতপত্র পাকিস্তান সরকার মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রকাশ করেছিল তাতে বলা হয়, ‘১৯৭১ সালের পয়লা মার্চ থেকে ২৫ মার্চ রাত পর্যন্ত এক লাখেরও বেশি মানুষের জীবননাশ হয়েছিল।’ এতকিছুর পরও বিএনপি ও তাদের দোসররা এখনও পাকিস্তান প্রীতিতে মগ্ন হয়ে আছে। বিএনপি মহাসচিবও বলেছেন, পাকিস্তান আমল নাকি খুব ভালো ছিল। সর্বশেষ তাদের দলের একজন ভাইস চেয়ারম্যানও বলেছেন, এখনকার চেয়ে নাকি পাকিস্তান আমল ভালো ছিল! এই হচ্ছে বিএনপি ও তাদের দোসরদের চিরাচরিত চরিত্র।

বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে নয় মাস যুদ্ধ করে বাঙালি জাতির মহান স্বাধীনতা অর্জন হয়েছে। এরপর থেকে বঙ্গবন্ধু সরকার গঠন করলে শুরু হয় দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্র। এমনকি স্বাধীনতার এই মহানায়ককে খুন করে ফেলতেও দ্বিধাবোধ করেনি ষড়যন্ত্রকারীরা। তবে তারা বাংলাদেশকে দাবিয়ে রাখার সেই অসৎ উদ্দেশ্য হাসিল করতে পারেনি তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণে। দেশের জন্য বঙ্গবন্ধু যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, আজ তার অবর্তমানে পিতার স্বপ্ন পূরণে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে আজ বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে চলমান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাদুর পরশে সব কিছু পাল্টে যাচ্ছে। তিনি উন্নয়নের জাদুকর। যেখানেই হাত দেন সেখানেই সোনা ফলে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার অসাধারণ নেতৃত্বে উন্নয়ন ও অর্জনের মাধ্যমে বিশ্বে বাঙালির পরিচয় বদলে দিয়েছেন। একসময় বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য বিশ্ব গণমাধ্যমে স্থান পেত। সে সময় বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ বলেও উল্লেখ করা হতো। এখন বাংলাদেশকে আর দরিদ্র দেশ বলার সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিক সব ধরনের সূচকে বাংলাদেশের অভাবনীয় উন্নয়ন সবার কাছে বিস্ময়কর। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকসহ দেশ-বিদেশের বাঘা বাঘা নেতাদের কাছেও এখন শেখ হাসিনা রোল মডেল।

এরপরও দুঃখজনক বিষয় হলো বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতি সবসময়ই দেশের বিরুদ্ধে। দেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রার বিরুদ্ধে। দেশের বিরুদ্ধে গিয়ে তারা যতই ষড়যন্ত্র করুক বঙ্গবন্ধুকন্যা সেটা হতে দিবেন না। আমরা বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার একেকজন সৈনিক হিসেবে উন্নয়ন অগ্রযাত্রা ব্যাহত হতে দিবো না, দিতে পারি না।

মহান স্বাধীনতার এই দিনে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ অনুসরণ করে অসাম্প্রদায়িক এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ার জন্য আমাদের শপথ নিতে হবে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সকল ষড়যন্ত্রকারীদের পরাজিত করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। একইসাথে এটাও মনে রাখতে হবে যে, বঙ্গবন্ধু এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে এমন স্থানে নিয়ে গেছেন যে, তারা এখন শুধু দলের সম্পদ নন, এদেশের জনগণের অবিসংবাদিত নেতা। সেজন্য দলমত নির্বিশেষে তাদেরকে যথাযথ সম্মান দিতে হবে, সাধারণ জনগণ সেটা দিচ্ছেনও। উন্নত, সমৃদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের বাংলাদেশ গড়তে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই।

লেখক: সংসদ সদস্য, ভোলা-৩